মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন সড়কে ৪৫৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৪১৬ জন নিহত এবং ৬২৯ জন আহত হয়েছেন। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে মোটরসাইকেল এখনো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। জুলাই মাসে ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এতে বোঝা যায়, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও পরিবহনশ্রমিক মিলিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৫১ জন। এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট, শুধু যাত্রী নয়, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও সড়কে সমানভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং চালকদের অসতর্কতাও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। জনসংখ্যার ঘনত্ব, যানবাহনের চাপ এবং ব্যস্ত মহাসড়ক থাকার কারণে এসব অঞ্চলে দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, বেপরোয়া যান চালানো, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, সড়কের নাজুক অবস্থা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল এবং মোটরসাইকেলের অনিরাপদ ব্যবহার দেশের সড়কে প্রাণহানির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সংস্থাটির মতে, কার্যকর নজরদারি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
সূত্র-নেপাল নিউজ