না ফেরার দেশে ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’ গানের শিল্পী স্বাগত দে
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট: বাংলা লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী স্বাগত দে আর নেই। ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’ গানের মাধ্যমে দুই বাংলার সংগীত প্রেমীদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেওয়া…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, তদবির এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে গভীর অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাহিনীতে স্বস্তি ফেরার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন একাধিক কর্মকর্তা। তাদের অভিযোগ, অতীতের মতো এখনও বদলি বাণিজ্য চলছে এবং এ কাজে একাধিক প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে পেশাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের আন্দোলন বা সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। তাদের মতে, কোনো অংশ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে শিথিলতা দেখায় বা অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে কাজ করে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সংকট কাটাতে বদলি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ এবং পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রধান বিবেচনায় আনতে হবে। তাদের মতে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
‘টাকা দিয়ে পোস্টিং নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব নয়‘
দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ না হলে বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাদের ভাষ্য, কেউ যদি মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নেন, তাহলে তার প্রথম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে সেই অর্থ তুলে আনা। ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কিংবা মাদকবিরোধী কার্যক্রম গুরুত্ব হারাবে।
একজন অতিরিক্ত আইজিপি অভিযোগ করেন, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ‘ফিট লিস্ট’ অনুসরণ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), রেঞ্জ ডিআইজি ও থানার ওসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদায়নের অভিযোগ এখন ব্যাপকভাবে আলোচিত। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট প্রধানের পদ নিয়েও অর্থ ও তদবিরের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
‘ফিট লিস্ট উপেক্ষা করে পদায়ন‘
পুলিশের একজন ডিআইজি বলেন, দেশে এসপি পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ রয়েছে প্রায় ১০০টি, অথচ এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তার সংখ্যা ৭০০-এরও বেশি। বিধি অনুযায়ী ব্যাচভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে ফিট লিস্ট তৈরি করে পদায়ন হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে যোগ্যতার পরিবর্তে তদবির বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত অযোগ্য কর্মকর্তারাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে অভিযোগ তার।
তিনি আরও বলেন, বিতর্কিত কোনো পদায়নের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হলেও এতে পুরো বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বঞ্চনার অভিযোগ, বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে ক্ষোভ
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগে বঞ্চিত অনেক কর্মকর্তা বর্তমান সময়েও কাঙ্ক্ষিত পদোন্নতি পাচ্ছেন না বলে অসন্তুষ্ট। আবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে কয়েকজন দক্ষ কর্মকর্তাকে ‘আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ’ আখ্যা দিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানোর ঘটনায় বাহিনীতে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ বেড়েছে, যা কর্মস্পৃহা ও পেশাদারিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
পদোন্নতি নীতিতে অসন্তোষ
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালার (পিআরবি) পরিবর্তন নিয়েও বাহিনীতে অসন্তোষ রয়েছে। নতুন চার হাজার এএসআই পদের ক্ষেত্রে বিভাগীয় পদোন্নতির বিধান থাকলেও সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে সরাসরি নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা এএসআইদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
একজন অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, অর্থের বিনিময়ে পদায়নের সংস্কৃতি কর্মকর্তাদের মূল লক্ষ্যকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। তার ভাষায়, “বিনিয়োগ করা টাকা তুলে আনাই অনেকের কাছে প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অধস্তন কর্মকর্তাদের আস্থাও কমেছে। ফলে সংকটকালে দায়িত্ব পালনে অনীহা তৈরি হচ্ছে, যা চেইন অব কমান্ডকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ভাইরাল অডিওতে নতুন বিতর্ক
পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বদলি ও পদায়ন নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পায় আইজিপির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক বডিগার্ডের কথিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর। ওই অডিওতে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের পছন্দের কর্মস্থলে বদলির জন্য অর্থ লেনদেনের কথাও উঠে এসেছে বলে অভিযোগ।
অডিওতে আরও দাবি করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বদলি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তি করছে।
এর আগে গত মে মাসে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার তৎকালীন ওসি মো. আবুল হাশেমের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে পুলিশের চাকরিকে “এক ধরনের ব্যবসা” হিসেবে উল্লেখ করতে শোনা যায়। অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার সদর দপ্তরের
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই। তার দাবি, বর্তমান আইজিপির বিরুদ্ধে পুলিশের অভ্যন্তরে একটি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
আইজিপির বডিগার্ডের ভাইরাল অডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন ইন্সপেক্টর ব্যক্তিগত তদবিরের জন্য বারবার ওই বডিগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু বডিগার্ড তদবির করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বিশেষ উদ্দেশ্যে কথোপকথনটি রেকর্ড করে প্রচার করা হয়েছে। তার ভাষ্য, “বডিগার্ডের মাধ্যমে বদলি বা পদায়নের কোনো সুযোগ নেই।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au