ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট- ঢাকার বারিধারায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নতুন একটি তথ্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে আগুনের কারণ হিসেবে টেলিভিশনের বৈদ্যুতিক তারে শর্ট সার্কিটকে দায়ী করা হলেও, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের আগে হাইকমিশনারের শোবার ঘরে ছারপোকার উপদ্রব ছিল এবং তা দমনে কীটনাশক ছিটানো হয়েছিল।
জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট ভোরে রাজধানীর বারিধারার ইউএন রোডের ২২ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বারিধারা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল ইসলাম জানান, ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে জরুরি ফোন পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যে, অর্থাৎ সকাল ৫টায় ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় সকাল সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, বাসভবনের একটি কক্ষে থাকা টেলিভিশনের বৈদ্যুতিক সংযোগে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে দুটি এয়ার কন্ডিশনার এবং একটি স্ট্যান্ড ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগুন লাগার কিছু সময় আগে সংশ্লিষ্ট কক্ষে ছারপোকা দমনের জন্য কীটনাশক ছিটানো হয়েছিল। এ কারণে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী নাঈমা ইমরান ওই রাতে পাশের একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। ফলে আগুনের সরাসরি শিখা তাদের কক্ষে পৌঁছাতে পারেনি।
তবে আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণে পরে সকাল ৯টার দিকে তাদের রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুজনকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করায় তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক ডা. আমিনা সুলতানার তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে দুজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে, বাসভবনে ছারপোকার উপদ্রবের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর কূটনৈতিক আবাসনটিতে সমস্যাটি কতদিন ধরে ছিল, কী ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এটি কোনো পেশাদার পেস্ট কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে ছারপোকা দমনের জন্য ব্যবহৃত কীটনাশকের সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে আগুনের কারণ হিসেবে শুধুমাত্র টেলিভিশনের বৈদ্যুতিক তারে শর্ট সার্কিটের বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, ৬ আগস্ট বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে পাকিস্তানের উপ-হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে গিয়ে হাইকমিশনারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতা বা অন্য কোনো কারণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ