ইনফান্তিনোকে পদত্যাগের আহ্বান নরওয়ের, পাশে মেক্সিকো-আর্জেন্টিনা
মেলবোর্ন, ৮ আগষ্ট ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন করে বিভাজন দেখা দিয়েছে। একদিকে নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে এবং ইউরোপের…
মেলবোর্ন, ৭ আগষ্ট- বিশ্বের আদিবাসী জনগণের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার নিশ্চিত, ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের ভূমি কমিশন দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও আদিবাসী নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সার্ক কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র (সিআইআরডিএপি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আদিবাসী জনগণ: জীবন, ভূমির অধিকার ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব দাবি জানানো হয়। বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ ১৭টি মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজের সংগঠন যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ছিল, ‘আদিবাসী ধাত্রীদের প্রতি সম্মান: জীবনের নিরাপত্তা ও কল্যাণ।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ভূমি, ঐতিহ্যগত অধিকার ও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। কিন্তু নীতিগত প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর বাস্তবায়নের অভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির অধিকারের আইনি স্বীকৃতি না থাকায় তারা নিয়মিতভাবে ভূমি দখল ও উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৭ ধারা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকদের (রাজস্ব) নিজ উদ্যোগে অবৈধ ভূমি হস্তান্তর ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন দ্রুত পুনরায় সক্রিয় করে সেখানে জমে থাকা ২৭ হাজারের বেশি আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান বক্তারা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আদিবাসীদের সংস্কৃতি, সামাজিক জীবন ও ঐতিহ্যের ভিত্তি হলো ভূমি। তাই ভূমিহীনতার প্রবণতা বন্ধ করা, প্রথাগত ভূমির অধিকারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। তিনি বলেন, সংবিধানে আদিবাসীদের যথাযথ পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং আদিবাসীদের পছন্দের বাংলা পরিভাষা ‘আদিবাসী’ ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি কোনো বিতর্কের বিষয় হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, অধিকার আদায়ে আদিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল তাদের বিভক্ত করতে না পারে। পাশাপাশি আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস দ্রুত গঠন ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বক্তারা আদিবাসী নারী ও ধাত্রীদের ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যসেবা জ্ঞানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান। দুর্গম অঞ্চলে মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমাতে ঐতিহ্যবাহী ধাত্রীদের প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ সম্পর্কে প্রচলিত অনেক ধারণাই ভুল। পরিবেশবান্ধব এই চাষাবাদকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও টেকসই করা সম্ভব।
সংসদ সদস্য আনা মিনজ বলেন, সরকার বিভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহার ও জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের উন্নয়নে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
সমতল ও পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধিরা অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিবেশগত সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, পার্বত্য এলাকায় আগে বড় ধরনের বন্যা বিরল ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে চলতি বছর পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে।
বক্তারা বলেন, আদিবাসী এলাকায় যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পূর্বানুমতি, মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসীদের বাদ দিয়ে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘রংধনু রাষ্ট্র’ গঠন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আদিবাসীদের সমঅধিকার নিশ্চিত করাই হবে প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, আদিবাসীদের ভূমির অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষা নিশ্চিত করা শুধু একটি জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয় নয়, বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au