শাহজালালে ৫৬ লাখ টাকার স্বর্ণ, সিগারেট ও অন্যান্য পণ্য জব্দ
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্টঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, সিগারেট, ‘গৌরী ক্রিম’ ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা…
মেলবোর্ন,১০ আগষ্ট: ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘কুশা’র প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়বে।
ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করেছে। গত ২৩ জুলাই পূর্ব ওড়িশার উপকূলে অবস্থিত ড. এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে ‘কুশা’র প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষাটি সফল হওয়ার পর দেশটির নিজস্ব বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনায় নতুন গতি এসেছে।
ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও স্তরভিত্তিক জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে কুশাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কুশা ব্যবস্থার উন্নয়নকে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভগুলোর একটি রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ত্রিউম্ফ ব্যবস্থা। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া নিজেদের সামরিক চাহিদা পূরণে ব্যস্ত থাকায় এস-৪০০ সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। এতে ভারতের আমদানিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি করে ভারত। চুক্তির আওতায় ভারত কয়েকটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন পেয়েছে এবং চলতি বছরের শেষ দিকে আরও একটি স্কোয়াড্রন পাওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল রবি গোপাল কৃষ্ণ কাপুর মনে করেন, কুশা দেশীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় ভারতের বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে এটিকে তুলনামূলকভাবে সহজে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্তার এবং পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের আবির্ভাবের কারণে আকাশপথের হুমকি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এ কারণে শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও ধ্বংসের সক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।
কুশাকে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বাইরের স্তরের একটি প্রতিরক্ষা বলয় হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা রাশিয়ার এস-৪০০-এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ এলাকায় স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন ও ইরানের সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, রেলপথ, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে বড় ভূখণ্ডজুড়ে কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাকে ভারত বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুশা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ১৫০, ২৫০ ও ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার তিন ধরনের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে কুশা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের সামরিক কাঠামোয় যুক্ত করা হতে পারে। এর ফলে দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষায় ভারতের নিজস্ব সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
রবি গোপাল কৃষ্ণ কাপুরের মতে, কুশা শুধু প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত আক্রমণাত্মক ভূমিকাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে দূরপাল্লার অস্ত্রে সজ্জিত আধুনিক যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে কুশার সফল পরীক্ষা ভারতের জন্য শুধু একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা নয়, বরং নিজস্ব প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au