মানবিক বিভাগে ১০০ ছাত্রের ৫৯ জনই ফেল
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মানবিক বিভাগে ছাত্রদের ফলাফলে বড় ধরনের অবনমন দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির জন্য ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের নিরাপত্তা সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদক চোরাচালান, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় এই অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটির নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ডানপন্থী নেতা আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও সমর্থক হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারের সময়ও তিনি ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণেই দে লা এসপ্রিয়েলা দেশের মাদক চক্র ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, কলম্বিয়ার কোনো এলাকায় অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকে নিরাপদে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশকে নিরাপদ করতে প্রয়োজনে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা সহায়তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়া অভিন্ন কিছু লক্ষ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, মাদক পাচার বন্ধ করা এবং অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা।
দে লা এসপ্রিয়েলার নিরাপত্তা নীতি তাঁর পূর্বসূরি গুস্তাভো পেত্রোর নীতির তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। গুস্তাভো পেত্রো সশস্ত্র সংঘাত কমাতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অপরাধী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর এই নীতির সঙ্গে লাতিন আমেরিকার এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে এবং ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়ার নিরাপত্তা নীতির তুলনা করা হচ্ছে। দুই দেশেই অপরাধী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে।
কলম্বিয়ার নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, দে লা এসপ্রিয়েলার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। জুনে তাঁর বিজয়ের পরও ট্রাম্প জানান, নতুন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও কলম্বিয়ার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা এসপ্রিয়েলা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিষ্ঠিত ‘আমেরিকার ঢাল’ নিরাপত্তা জোটে কলম্বিয়ার যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের মতে, নতুন কলম্বীয় সরকারের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কর্মসূচি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে।
দে লা এসপ্রিয়েলার সরকার এখন লাতিন আমেরিকার সেই ডানপন্থী সরকারগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, যাদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক ভালো। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও পেয়েছে।
দে লা এসপ্রিয়েলার নতুন নীতি কলম্বিয়ার আগের সরকারের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাত কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। কৃষকদের কোকা চাষ থেকে সরিয়ে আনতে বিভিন্ন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছিল।
তবে এই নীতির সমালোচকেরা দাবি করেন, প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কলম্বিয়ায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যসংখ্যা বেড়েছে। গত বছর কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পও গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের বিরুদ্ধে কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে পেত্রো লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধির সমালোচনা করেছিলেন।
ইসরায়েলের সঙ্গেও দে লা এসপ্রিয়েলার নীতি তাঁর পূর্বসূরির চেয়ে ভিন্ন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে পেত্রো কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং একপর্যায়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। বিপরীতে দে লা এসপ্রিয়েলা ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা পেশায় একজন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী। তিনি নিজেকে ‘এল তিগ্রে’, অর্থাৎ ‘দ্য টাইগার’ নামে পরিচয় দেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি নিজেকে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর আইনজীবী জীবনে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের পক্ষেও আইনি সহায়তা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই মাদক ও সশস্ত্র অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
দে লা এসপ্রিয়েলা দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে বসবাস ও কাজ করেছেন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লঁশ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো উপস্থিত ছিলেন।
তিনি রাজধানী বোগোটার পরিবর্তে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে নিজের নেতৃত্বের আলাদা পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচনী প্রচারের সময় দে লা এসপ্রিয়েলাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দেখা গেছে। কখনো বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে বক্তব্য দিয়েছেন, আবার কখনো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যেই তিনি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দে লা এসপ্রিয়েলার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কলম্বিয়া এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। প্রথম দিনেই ১০০ কোটি ডলারের মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তার ঘোষণা নতুন সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের আস্থারও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au