বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান নরেন্দ্র মোদি: ভারতীয় হাইকমিশনার
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে রেজাইয়ের নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিবের পদ থেকে মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর পদত্যাগ করার পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোহসেন রেজাই।
৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্যক্তি। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৬ বছর আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব পালনের বড় একটি সময়জুড়ে ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলেছে। ওই সময় ইরানের সামরিক কাঠামো ও নিরাপত্তা নীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আইআরজিসির প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কাঠামোয় সক্রিয় ছিলেন রেজাই। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নেতৃত্বে রেজাইয়ের আসা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেজাইয়ের অবস্থান বেশ কঠোর। গত জুলাইয়ে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি পরিবহনের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে এই নৌপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে রেজাই অতীতেও হরমুজ প্রণালিকে ইরানের কৌশলগত শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রেজাইয়ের আগে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর। তিনিও আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার। গত মার্চে তিনি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
রোববার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় জানিয়েছে, জুলঘাদর নতুন দায়িত্বে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। ফলে নিরাপত্তা কাউন্সিলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পাশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পরামর্শক কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হলো।
সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে এই কাউন্সিলের ভূমিকা রয়েছে। তাই দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মোহসেন রেজাইকে এই পদে নিয়োগ ইরানের নিরাপত্তা নীতিতে ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ এএফপি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au