সাভারে মসজিদের মাঠে প্রেশারকুকার বোমা, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট: ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি মসজিদের মাঠে পাওয়া প্রেশারকুকারে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। বুধবার (১২…
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বীচে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তদন্তে ৮০০ জনের বেশি সাক্ষীর বক্তব্যসহ বিপুল পরিমাণ আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ওই হামলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুসহ ১৫ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হন।
বুধবার ডাউনিং সেন্টার লোকাল কোর্টে মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তদন্তে এরই মধ্যে ৮০০টির বেশি সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, ব্যালিস্টিক প্রমাণ এবং সাতটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড্যানিয়েল নিউ আদালতকে জানান, আরও ১২টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া এবং পর্যালোচনা করা বাকি রয়েছে।
তদন্তের বিপুল পরিমাণ তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার জন্য বুধবার আদালত মামলাটির শুনানি ১১ সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্ত বাবা-ছেলে হানুক্কাহ উৎসবের অনুষ্ঠানে তিনটি পাইপ বোমা ছুড়েছিলেন। এসব বোমায় স্টিলের বল-বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি টেনিস বল দিয়ে তৈরি একটি বোমাও ছোড়া হয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে আর্চার পার্কে আয়োজিত হানুক্কাহ উদযাপনের সময়। তবে ছোড়া কোনো বোমাই বিস্ফোরিত হয়নি।অভিযুক্ত দুজনের গাড়ি থেকে বাক্সের মতো দেখতে আরও একটি বোমা এবং হাতে আঁকা ইসলামিক স্টেটের দুটি পতাকা উদ্ধারের অভিযোগ রয়েছে।
হামলার পর পুলিশের গুলিতে বাবা আকরাম নিহত হন এবং তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে পরিচয় গোপন রাখার বিশেষ অনুমতি পাওয়া বেশ কয়েকজন সাক্ষী এখন পুলিশের কাছে এসে নতুন করে তাদের বক্তব্য দিচ্ছেন।
হামলার সময় আর্চার পার্কে অথবা এর আশপাশে থাকা এসব প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তা ও মানসিক পুনঃআঘাতের আশঙ্কায় এতদিন নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছিলেন।

নাভিদ আকরামের বিরুদ্ধে বন্ডি বিচে জড়ো হওয়া মানুষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। (নাইন/সরবরাহকৃত)
জুলাইয়ে বিচারক কারেন স্ট্যাফোর্ড সাক্ষীদের পরিচয় গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়ার সময় বলেছিলেন, ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা প্রত্যক্ষ করার মানসিক আঘাত বাস্তব। একই সঙ্গে সাক্ষী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের শারীরিক নিরাপত্তার জন্যও প্রকৃত ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি বলেন, সাক্ষীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় যাতে অন্যরা আদালতে সাক্ষ্য দিতে নিরুৎসাহিত না হন, সে কারণেই পরিচয় সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিচারক হিউ ডনেলি মামলার পূর্ণাঙ্গ প্রমাণপত্র প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের কাছে জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর অনুমোদন দেন। তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলায় তিনি সময় বাড়ানোর বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
আকরামের বিরুদ্ধে মোট ৭৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ, ১৫টি হত্যা এবং ৪৩টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ।
তবে এখনো এসব অভিযোগের কোনোটি নিয়ে আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষ স্বীকার বা অস্বীকারের আবেদন জানাতে তাকে বলা হয়নি।
মামলাটিতে বিপুলসংখ্যক সাক্ষী, ভিডিও, ব্যালিস্টিক আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য থাকায় তদন্ত শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণপত্র আদালতে উপস্থাপনে আরও সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র-নাইন কম এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au