মেন ইন প্রপার্টি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ হাতে ফাস্ট সেটেল কনভেয়ান্সিং অ্যান্ড প্রপার্টি ল-এর প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ শেখ। ছবি: ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন: অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি ও কনভেয়ান্সিং খাতে উল্লেখযোগ্য পেশাগত স্বীকৃতি অর্জন করেছেন ফাস্ট সেটেল কনভেয়ান্সিং অ্যান্ড প্রপার্টি ল-এর প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ শেখ। অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব কনভেয়ান্সার্স ভিক্টোরিয়ার পক্ষ থেকে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘মেন ইন প্রপার্টি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।
পেশাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্ব, সততা এবং সম্পত্তি খাতে অর্থবহ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। মোহাম্মদ শেখ ফাস্ট সেটেলের পক্ষ থেকে সম্মাননাটি গ্রহণ করেন এবং এই অর্জনকে প্রতিষ্ঠানের পুরো দল, গ্রাহক, রেফারেল পার্টনার ও পেশাগত সহযোগীদের সম্মিলিত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
“মেন ইন প্রপার্টি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ গ্রহণ করা আমার জন্য অসাধারণ সম্মানের,” মোহাম্মদ শেখ বলেন।
“ফাস্ট সেটেলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করেছি। আমাদের দলের প্রত্যেক সদস্যের নিষ্ঠা, কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিকভাবে উচ্চমানের সেবা দেওয়ার অঙ্গীকার এই অর্জনে অবদান রেখেছে। এই স্বীকৃতি ফাস্ট সেটেল পরিবারের সবার।”
মোহাম্মদ শেখের মতে, পুরস্কারটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং যেসব নীতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে ফাস্ট সেটেল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারও স্বীকৃতি। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে পেশাদারত্ব, জবাবদিহি, কারিগরি দক্ষতা, নৈতিক অনুশীলন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যক্তিগত লেনদেনের সময় গ্রাহকদের পাশে থাকার আন্তরিক অঙ্গীকার।
ফাস্ট সেটেল ভিক্টোরিয়া, নিউ সাউথ ওয়েলস ও সাউথ অস্ট্রেলিয়াজুড়ে কনভেয়ান্সিং এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত সেবা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক কনভেয়ান্সিং, অফ-দ্য-প্ল্যান সম্পত্তি ক্রয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে মালিকানা হস্তান্তর এবং অন্যান্য জটিল সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয়ে গ্রাহকদের সহায়তা করে।
মোহাম্মদ শেখের নেতৃত্বে ফাস্ট সেটেল পেশাগত জ্ঞানের সঙ্গে দ্রুত ও গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার সমন্বয় ঘটিয়ে সুনাম অর্জন করেছে। সম্পত্তি লেনদেনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আইনি, আর্থিক ও মানসিক বিষয় জড়িত থাকতে পারে—এই উপলব্ধি থেকেই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি পর্যায়ে স্পষ্ট যোগাযোগ, সতর্ক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবভিত্তিক পরামর্শের ওপর গুরুত্ব দেয়।
“গ্রাহকেরা যখন তাঁদের সম্পত্তি লেনদেন পরিচালনার দায়িত্ব ফাস্ট সেটেলকে দেন, তখন তাঁরা আমাদের ওপর বিপুল আস্থা রাখেন। আমরা কখনোই সেই দায়িত্বকে হালকাভাবে নিই না,” মোহাম্মদ শেখ বলেন।
“কনভেয়ান্সিং প্রক্রিয়ার পুরো সময় প্রত্যেক গ্রাহকেরই সঠিক তথ্য পাওয়া, সুরক্ষিত থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা লাভ করার অধিকার রয়েছে।”
প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে রেফারেল পার্টনারদের ভূমিকাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেন তিনি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মর্টগেজ ব্রোকার, আবাসন পেশাজীবী, বায়ার্স অ্যাডভোকেট, আর্থিক উপদেষ্টা এবং সম্পত্তি খাতের অন্যান্য সহযোগী।
মোহাম্মদ শেখ বলেন, “ফাস্ট সেটেলের ওপর তাঁদের অব্যাহত আস্থা আমাদের ব্যবসার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিটি রেফারেল পেশাগত আস্থার বহিঃপ্রকাশ। কাজের মান বজায় রাখার মাধ্যমে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এমন এক সময়ে এই স্বীকৃতি এলো, যখন পরিবর্তিত আইন, ইলেকট্রনিক সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি, নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা এবং গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার কারণে কনভেয়ান্সিং পেশা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ফাস্ট সেটেল সমসাময়িক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ, পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগ এবং আইন ও শিল্পখাতের পরিবর্তন সম্পর্কে কর্মীদের হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য শুধু লেনদেন সম্পন্ন করা নয়; বরং গ্রাহকদের স্বচ্ছতা, আস্থা এবং নির্ভরযোগ্য পেশাগত সহায়তা দেওয়া।
নিজের পেশাগত যাত্রায় পরিবারের অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ শেখ।
“কোনো অর্থবহ অর্জন একা সম্ভব হয় না,” তিনি বলেন।
“আমার প্রতি বিশ্বাস রাখা, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার সময় পাশে দাঁড়ানো এবং আমাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য পরিবারের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের উৎসাহই ব্যবসা গড়ে তোলা ও পরিচালনার সবচেয়ে কঠিন সময়েও আমাকে উৎকর্ষ অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।”
ফাস্ট সেটেলের পরিচয়ের সঙ্গে সামাজিক ও কমিউনিটি সম্পৃক্ততাও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। মোহাম্মদ শেখ মনে করেন, পেশাগত সাফল্যের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের বাইরেও ইতিবাচক অবদান রাখার দায়িত্ব রয়েছে। গ্রাহক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সেবা, সম্মান ও অর্থবহ সংযোগের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চায়।
‘মেন ইন প্রপার্টি অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও মোহাম্মদ শেখ একে যাত্রার সমাপ্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
“এই পুরস্কার আমাদের আরও উন্নতি করার সংকল্পকে শক্তিশালী করেছে,” তিনি বলেন।
“পেশাগত স্বীকৃতির সঙ্গে উচ্চমান বজায় রাখা, গ্রাহকদের সহায়তা করা এবং কনভেয়ান্সিং ও সম্পত্তি খাতে গঠনমূলক অবদান রাখার চলমান দায়িত্বও আসে।”
তিনি আরও বলেন, “ফাস্ট সেটেল ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের কর্মীদের উন্নয়নে বিনিয়োগ, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য, নৈতিক ও গ্রাহককেন্দ্রিক কনভেয়ান্সিং সেবা প্রদান অব্যাহত রাখব।”
পুরস্কারটি ফাস্ট সেটেলের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখা সবার প্রতি উৎসর্গ করেন মোহাম্মদ শেখ।
“যাঁরা ফাস্ট সেটেলের ওপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং আমাদের যাত্রায় অবদান রেখেছেন, এই পুরস্কার তাঁদের সবার,” তিনি বলেন।
“আমাদের দল, গ্রাহক, রেফারেল পার্টনার, পরিবার ও কমিউনিটির সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের আস্থা ও সমর্থনেই এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনের যাত্রা অব্যাহত রাখতে চাই।”