১১০০ বর্গফুটে ৫ ঘর, নেই অগ্নিনিরাপত্তা: কলকাতার হোটেল পাড়ায় আরও ‘মরণফাঁদ’
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে ৯ জনের মৃত্যুর পর প্রশ্ন উঠেছে আশপাশের হোটেল গুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে। সরেজমিনে…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট: “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব” – বলেছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম” – বলেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৫ আগস্ট। একই তারিখ। দুই জাতির ভাগ্য জড়িয়ে আছে এই দিনে।
১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারত পেয়েছিল ২০০ বছরের পরাধীনতা থেকে মুক্তি।
আর ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশ হারিয়েছিল তার স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
আজ ২০২৬ সালে ভারত পালন করছে ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। আর বাংলাদেশ পালন করছে জাতীয় শোক দিবস। আনন্দ আর বেদনা একই সূতোয় গাঁথা।
১. ভ্রাতৃত্বের শেকড়: ভারত স্বাধীন না হলে বাংলাদেশও হতো না
আমরা গর্বের সাথে বলি – ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ক। শেকড়ের সম্পর্ক।
১৯৪৭ এ যদি ভারত স্বাধীন না হতো, তাহলে বাংলাদেশ কোনোদিন স্বাধীন হতো না।
কারণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যে প্রথম ফাটল ধরেছিল, সেটা ধরেছিল ১৫ আগস্ট।
সেই ফাটল দিয়েই ১৯৪৭ এ জন্ম নিয়েছিল পূর্ব পাকিস্তান। আর সেই পূর্ব পাকিস্তানের বুকেই ২৪ বছর পর জন্ম নিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।
ভারতের স্বাধীনতা মানে ছিল উপমহাদেশের মানুষের মনে সাহস জন্মানো – “আমরাও পারি”।
সেই সাহস নিয়েই বাঙালি ৫২ তে ভাষার জন্য, ৭১ এ মুক্তির জন্য লড়েছে।
তাই ভারতের স্বাধীনতা দিবস আমাদেরও গর্বের দিন।
২. নেতাজীর আদর্শেই উজ্জীবিত বঙ্গবন্ধু
নেতাজী বলেছিলেন – “আপোষে স্বাধীনতা আসে না, কেড়ে নিতে হয়”।
বঙ্গবন্ধু সেই আদর্শকেই ধারণ করেছিলেন।
গান্ধীর মতো তিনি মানুষকে জাগিয়েছেন – ৬ দফা, ১১ দফা, গণঅভ্যুত্থান।
নেতাজীর মতো তিনি বলেছেন – “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব”। ৭ই মার্চের সেই কণ্ঠ ছিল নেতাজীরই প্রতিধ্বনি।
নেতাজী চেয়েছিলেন শক্তিশালী, আত্মমর্যাদাশীল জাতি।
বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন “সোনার বাংলা”।
দুইজনই বিশ্বাস করতেন – অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা যাবে না।
তাই আমি বলি – নেতাজীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়েই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন।
৩. ১৫ আগস্ট: বেদনার দিন
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাত। ধনমণ্ডি ৩২ নম্বর।
ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার।
এটা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়।
সেদিন শুধু একজন মানুষ মরেননি। সেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল।
কিন্তু তারা জানত না – বঙ্গবন্ধু মরে গেলেও তার আদর্শ মরে না।
৪. ৮০ বছর পর: আমাদের অঙ্গীকার
৮০ বছরের ভারত আজ বিশ্বশক্তি। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।
এই অগ্রযাত্রার ভিত্তি হলো আমাদের ভ্রাতৃত্ব।
১৯৭১ এ ভারতের মানুষ, সরকার, সেনাবাহিনী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল বলেই আমরা ৯ মাসে বিজয় পেয়েছি।
সেই ঋণ আমরা ভুলি নাই, ভুলবও না।
আজকের দিনে আমাদের শপথ:
গান্ধীর মতো মানবিক হব, নেতাজীর মতো নির্ভীক হব, বঙ্গবন্ধুর মতো দেশপ্রেমিক হব।
সীমান্ত থাকবে, কিন্তু মনের দূরত্ব থাকবে না।
গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
তাদের আত্মার চির শান্তি কামনা করছি।
তারা দুইজন দুই দেশের। কিন্তু স্বপ্ন একটাই ছিল – শোষণমুক্ত, মর্যাদাশীল জাতি।
বাংলাদেশ ইতিহাস ঐতিহ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে ভারতীয় সরকার ও জনগণকে তাদের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
স্বাধীনতা পেল ভারত।আর সেই আলোতেই জন্ম নিল বাংলাদেশের পথ।
জয় হিন্দ। জয় বাংলা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au