বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহ্বান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- ১৫ আগষ্ট অনুষ্টিতব্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সংগঠনটির আহ্বায়ক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, কো-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মিজানুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান। সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক শেখ জামাল বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছরের পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ধাপে ধাপে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করতে গিয়ে জীবনের মূল্যবান যৌবনের প্রায় ১৪ বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে।
তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির পর বাঙালি জাতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরার পর তাকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সংগঠনটির নেতারা জানান, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদায় উন্নীত করা সম্ভব হয়। জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করার সময় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয়।
বিবৃতিতে তারা ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের সদস্য এবং অন্য নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, বাঙালি জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অত্যাচার-নির্যাতনমুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।