লালমনিরহাটে মন্দির ও শ্মশানের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কালী মন্দির, বৃদ্ধেশ্বরী মন্দির ও নামুরী চন্দ্রপুর শ্মশানঘাটের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মন্দির ও শ্মশানঘাটের জায়গায় দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় সেবায়েত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নামুরী চন্দ্রপুর-২০ নম্বর মৌজায় বি.আর.এস. ৭৬ নম্বর দাগে মোট প্রায় ৬৬ শতক জমি রয়েছে। এই জমির একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে শ্রী শ্রী কালী মন্দির, বৃদ্ধেশ্বরী মন্দির ও নামুরী চন্দ্রপুর শ্মশানঘাট পরিচালিত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের দাবি, মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় মূল প্রতিষ্ঠাতা প্রায় ৩৭ শতক জমি মন্দিরের নামে দান করেন। ওই জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে বলেও তারা জানান। বাকি জমির একটি অংশ পরবর্তী সময়ে বিক্রি হয় এবং বিভিন্ন সময়ে হস্তান্তরের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে।

মন্দিরের জমির দলিল। ছবিঃ সংগৃহীত
তবে সম্প্রতি ওই জমির নতুন ক্রেতা পক্ষ মন্দির ও শ্মশানঘাটের একাংশ নিজেদের জমি দাবি করে দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় বহিরাগত ও বিভিন্ন এলাকার লোকজন এনে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করানো হয় এবং জমি দখলের চেষ্টা করা হয়।
মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিরোধ এড়াতে মন্দিরের পেছনের অংশ থেকে প্রায় ৫ শতক জমি ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা থাকায় বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু জমি দাবিদার পক্ষ ওই প্রস্তাব গ্রহণ না করে মন্দিরের পাশের অংশ দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দখলের চেষ্টার সময় মন্দিরের এক পাশের দেয়াল ও স্থাপনা ভেঙে সংলগ্ন জমি দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মন্দিরের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় সেবায়েত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এই মন্দির ও শ্মশানঘাটের জমি কোনোভাবেই দখল হতে দেওয়া যাবে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। ছবিঃ সংগৃহীত
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জমি নিয়ে কোনো পক্ষের দাবি থাকলে তা কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গায় লোকজন এনে দখলের চেষ্টা করলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, মন্দির ও শ্মশানঘাটের জমির মালিকানা-সংক্রান্ত দলিলপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলের চেষ্টা বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয়রা হিন্দুরা আশঙ্কা করছেন, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।