বাংলাদেশ

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক না হাসিনার প্রত্যাবর্তন, কোন পথে হাঁটবেন তারেক?

  • 5:48 pm - August 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৬৪ বার
হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে অনড় ঢাকা, জটিল হচ্ছে তারেকের দিল্লি সফর।

মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবি এখন আর শুধু একটি কূটনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি তাঁর সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগের মধ্যেই ঢাকার পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ভারতে থেকে প্রত্যাবর্তনের দাবি নতুন করে জোরালো হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৪ সালের জুলাই আনন্দোলনের পর হওয়ার পর ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছে ঢাকা। সম্প্রতি বাংলাদেশ আবারও এই দাবিকে সামনে এনেছে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে ঢাকার অসন্তোষ আরও বেড়েছে। ফলে তারেক রহমানের ভারত সফর এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

প্রত্যাবর্তন দাবির পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখনো অত্যন্ত বিতর্কিত ও বিভাজন সৃষ্টিকারী একটি রাজনৈতিক চরিত্র। তাঁর দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনগণের একটি অংশের মধ্যে জোরালো রয়েছে।

তারেক রহমানের জন্য শেখ হাসিনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে পারেন যে তাঁর সরকার আগের প্রশাসনের সঙ্গে স্পষ্টভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এগিয়ে যেতে চাইছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ কট্টরপন্থী রাজনৈতিক শক্তি ও মিত্রদের পক্ষ থেকেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ রয়েছে। এসব রাজনৈতিক শক্তি শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আসছে।

ফলে তারেক রহমানের সামনে এখন কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। প্রত্যাবর্তনের দাবি থেকে সরে এলে দেশের ভেতরে তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। অন্যদিকে, ভারতকে চাপ দিতে গিয়ে দাবি আরও জোরালো করলে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের জন্য ভারত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক অচলাবস্থা ঢাকার জন্যও ব্যয়বহুল হতে পারে। একইভাবে ভারতের জন্যও বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমানের সরকারও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখতে চায় না। বরং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন এখন সেই সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠেছে।

শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারত সরল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে, এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। ভারতের কর্মকর্তারা বলে আসছেন, প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।

নয়াদিল্লি একই সঙ্গে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য থেকেও নিজেদের দূরে রেখেছে। ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন বলেই তাঁর বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ভারত সরকারের সমর্থন রয়েছে, এমনটি নয়।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন দাবি এবং ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলার মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফলে তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনার বিষয়টি কীভাবে সামলানো হবে, সেটিই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমান এখন একদিকে দেশের অভ্যন্তরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার চাপের মুখে রয়েছেন, অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করেন, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে ঢাকা-নয়াদিল্লির আগামী দিনের সম্পর্কের গতিপথ।

এই শাখার আরও খবর

সৎসঙ্গ ওশেনিয়ার আয়োজনে মেলবোর্নে শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম পবিত্র জন্মবার্ষিকী আগামী ২২ আগস্ট

মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া, ১৭ আগষ্ট: শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, মেলবোর্নের ক্লেটন হলে বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে…

‘আল্লাহর ওপর ভরসা করি, কোনো চালাকির কাছে নয়’

মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- ‘আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করি, কোনো চালাকির কাছে নয়’—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ…

দ্রুত তারেক রহমানের ভারত সফর হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী

মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের…

মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেবে ইরান

মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- মার্কিন সেনাসদস্যকে হত্যা বা আটক করে হস্তান্তর করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির…

হারের পর অস্ট্রেলিয়ার সামনে ৩৮ লাখ টাকা জরিমানার শঙ্কা

মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার হারকে এ দুটি শব্দে বেঁধেছে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া ‘নিউজ কর্প অস্ট্রেলিয়া’র ওয়েবসাইট নিউজ ডট কম এইউ।…

ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই: প্রধান প্রসিকিউটর

মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা তাঁর বিরুদ্ধে দেশটিতে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া চলছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে কোনো…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au