ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- মার্কিন সেনাসদস্যকে হত্যা বা আটক করে হস্তান্তর করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। কোনো নারী এই কাজ করতে পারলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে ৬০ হাজার ডলার হবে।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া বক্তব্যে হাতামি এ ঘোষণা দেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। (India Today)
হাতামির ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনাকে হত্যা বা আটক করে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৫ বিলিয়ন ইরানি তোমান পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো ইরানি নারী এ ধরনের কাজ করলে তিনি পাবেন দ্বিগুণ অর্থ। (The Statesman)
ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, এ ধরনের আর্থিক সহায়তায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক অনুরোধ আসার পরই পুরস্কার দেওয়ার এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে মার্কিন সেনাদের কোথায় বা কীভাবে লক্ষ্য করা হবে, কিংবা পুরস্কার পাওয়ার প্রক্রিয়া কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। (Moneycontrol)
ইরানে মার্কিন স্থলসেনা নেই
ইরানের এই ঘোষণার সময় দেশটির ভেতরে মার্কিন স্থলবাহিনীর বড় ধরনের কোনো মোতায়েনের তথ্য জানা যায়নি। ফলে ইরানের ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটির পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটিই সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক সদস্যদের উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। (The Times of India)
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনার মধ্যে নতুন ঘোষণা
মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র অবস্থায় রয়েছে।
ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানের বিরুদ্ধে তেহরান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। (India Today)
ইরানের এই পুরস্কার ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অবস্থানের আরও একটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের ঘোষণা কি না, সে বিষয়ে হাতামি কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি থাকলেও ইরানের ভূখণ্ডে নিয়মিত মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন রয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ্যে নেই। ফলে ঘোষণাটির তাৎক্ষণিক সামরিক প্রভাব কতটা হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।