ভারতের বিহার রাজ্যের লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরে পদদলনের ঘটনায় সাতজন ভক্ত নিহত হয়েছেন।
মেলবোর্ন, ১৭ আগষ্ট- ভারতের বিহার রাজ্যের লাখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় অন্তত সাতজন ভক্ত নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জনের বেশি। সোমবার সকালে পবিত্র শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগমের মধ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে মন্দির এলাকায় একটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যায়। এতে ভক্তদের মধ্যে হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত লোকজন একসঙ্গে ছোটাছুটি শুরু করলে মন্দির চত্বরে পদদলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন হেমলতা দেবী, ললিতা দেবী, রিঙ্কু দেবী ও মনমালা দেবী। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ভিড়ের চাপে একপর্যায়ে মন্দিরের একটি পাশের ব্যারিকেড ভেঙে যায়। এতে অনেক ভক্ত মাটিতে পড়ে যান এবং তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে লাখিসরাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লাখিসরাইয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শৈলেন্দ্র কুমার জানান, শ্রাবণ মাসের সোমবার বিপুলসংখ্যক ভক্ত মন্দিরে আসবেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে এদিন মন্দিরে ভিড় ছিল ‘অভূতপূর্ব’।
শৈলেন্দ্র কুমারের ভাষ্য, অতিরিক্ত মানুষের চাপে মন্দিরের এক পাশের ব্যারিকেড ভেঙে গেলে ভক্তরা একে অন্যের ওপর পড়ে যান। প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ থেকে ১৫ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী ভারতের সংবাদমাধ্যম আজ তককে জানান, মন্দিরের প্রবেশপথের কাছে প্রায় ১০০ জন ভক্ত ব্যারিকেড ঠেলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। প্রবেশপথটি ঢালু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, অনেক ভক্ত বাঁশের ব্যারিকেড পার হয়ে মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। পেছন থেকে অন্যরা ধাক্কা দিতে থাকায় একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে যায় এবং বেশ কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। এরপর তাদের ওপর দিয়েই অন্য ভক্তরা চলাচল করতে থাকেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী বা প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। পদদলনের পর তাঁর স্ত্রীও ভিড়ের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য তিনি তাঁর মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
ঘটনার পর মন্দির এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও ওঠে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্রাট চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিভাগের ‘চরম গাফিলতির’ কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি জানান, পুরো ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তবে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ার ঘটনাই সরাসরি পদদলনের কারণ ছিল কি না, নাকি অতিরিক্ত ভিড় ও ব্যারিকেড ভেঙে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তা তদন্তের পর আরও পরিষ্কার হবে।
অশোক ধাম মন্দিরে এর আগেও পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালের ১২ আগস্ট, শ্রাবণ মাসে একই মন্দির চত্বরে পদদলনের ঘটনায় একজন ভক্ত নিহত এবং প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছিলেন।
এবার শ্রাবণ মাসের সোমবারে আগের তুলনায় বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হওয়ায় নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্ঘটনার পর মন্দির এলাকায় শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে।
সুত্রঃ ইন্দিয়া টুডে