স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে তাঁদের স্পেনের ভূখণ্ডে আশ্রয় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তাঁদের হাতে স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।
গত ৩০ ও ৩১ জুলাই মরক্কো সীমান্ত দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী সিউটায় প্রবেশের পর থেকেই সেখানে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এটি ওই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সীমান্ত পারাপারের ঘটনাগুলোর একটি।
বিপুলসংখ্যক মানুষের আকস্মিক প্রবেশের কারণে সিউটার আগে থেকেই সীমিত থাকা আশ্রয় ও অভ্যর্থনা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে। অধিকাংশ অভিবাসী এখন স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। এ সময় তাঁদের অনেকেই শহরের উপকণ্ঠ ও এল ত্রাম্পোলিন সৈকত এলাকায় অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সিউটায় জায়গার সংকট ও অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক অভিবাসী মানবেতর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন। পর্যাপ্ত আশ্রয়, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবেও তাঁদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
মরক্কোর তেতুয়ান থেকে সিউটায় আসা আইয়ুব এলআরুদ নিজের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁরা সমুদ্রের পাশে রাত কাটাচ্ছেন। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও দুর্গন্ধ রয়েছে এবং তাঁরা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শহরের দিকে যেতে পুলিশ তাঁদের বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অভিবাসীরা স্পেনের কাছে তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং নিরাপদ পরিবেশে থাকার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁদের মরক্কোতে ফেরত না পাঠানোর আহ্বানও জানান তাঁরা।
সিউটা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফ্রিকা থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই দুটি অঞ্চল ব্যবহার করে আসছেন অভিবাসীরা।
সিউটায় সাম্প্রতিক বিপুল অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের অবস্থানের কারণে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তাঁদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, অনিশ্চিত অবস্থায় সৈকত ও শহরের বাইরে দিন কাটানোর পরিবর্তে তাঁদের মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সিউটায় আটকে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ইউরোপে আশ্রয়ের প্রত্যাশায় দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছেছেন। পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং তাঁদের আবেদন কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুত্রঃ দ্য সান