৪৭০ কোটি ডলারের গর্ডি হো আন্তর্জাতিক সেতুতে যান চলাচল | ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- দীর্ঘদিনের মিত্র কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের সমপরিমাণ প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা।
শনিবার মধ্যরাতের পর থেকেই কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কাঠের তৈরি হকি স্টিকসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। কানাডার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি এই শুল্কের আওতায় পড়বে বলে জানা গেছে।
তবে অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হলেও নতুন শুল্ককে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নবায়নের বৃহত্তর আলোচনাও এতে আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কানাডার আলোচনাকারীদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন শুল্কের বিপরীতে ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা।
কার্নি বলেন, কানাডার প্রতিনিধিরা পুরো আলোচনাজুড়ে দেশের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কানাডার কাছে অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হলে সেটি কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই গত বছর নির্বাচিত হয়েছিলেন কার্নি। কানাডায়ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কোনো ধরনের বড় ছাড় দেওয়ার বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মানুষ।
এর আগে শুক্রবার পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ি রপ্তানির ওপর শুল্ক কমানো হতে পারে। এমনকি কানাডার মদের দোকানগুলোতে আবারও মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির সুযোগ তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যে শর্তগুলো নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছিল, কানাডা শেষ পর্যন্ত সেই ভিত্তিতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে রাজি হয়নি।
গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদার হওয়ার একটি সুযোগ কানাডা হারিয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা বড় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক শুল্ক কাঠামো পেত। তবে কানাডা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও সফটউড কাঠের ওপর আরও কিছু ছাড় চেয়েছিল।
ফলে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং কোনো চুক্তি ছাড়াই নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।
দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আগামী দিনগুলোতে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: রয়টার্স