পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতের নির্দেশিত বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।
শনিবার দলটির কর্মকর্তারা জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরান খানকে ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে।
পিটিআইয়ের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা নাঈম পানজুথা বলেন, আবেদনে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে দুই দিনের মধ্যে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার কথা ছিল।
কিন্তু শুক্রবার রাতে কর্তৃপক্ষ তাকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেয়। সেখানে অল্প সময়ের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
পিটিআইয়ের অভিযোগ, ইমরান খানকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছেও যেতে দেওয়া হয়নি। দলটির দাবি, এটিও আদালতের নির্দেশের লঙ্ঘন।পিটিআই আদালতের আদেশের ব্যাখ্যায় বলছে, ইমরান খানকে অন্তত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিআইএমএসে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তার বোন উজমা খানও উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শারীরিকভাবে তার ভাই এখন সুস্থ আছেন। তবে ইমরান তাকে জানিয়েছেন, কারাগারে তাকে বারবার নির্যাতন করা হচ্ছে।
নির্যাতনের এই অভিযোগ নিয়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং কারা কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
তবে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার শুক্রবার বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনালের পরিবর্তে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছে।
ইমরান খান পাকিস্তানে এখনও ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্ষমতা হারানোর পর ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালায়।
ইমরানকে জোর করে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নতুন করে বিক্ষোভ উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইমরানের সমর্থকেরা রাতেই ইসলামাবাদের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন। পিটিআই নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাটি দলের ওপর চাপ আরও বাড়াবে এবং আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিকল্পিত বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতিও জোরদার করবে।
সূত্র: রয়টার্স