ক্যাপ্টেন অজয় পন্ত এবং তাঁর স্ত্রী ঋতু। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে রুশ তেলবাহী জাহাজের ভারতীয় ক্যাপ্টেন অজয় পন্ত গ্রেপ্তার হওয়ার পর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী ঋতু। তাঁর দাবি, কোনো অপরাধ না করেই ভুল সময়ে ভুল জায়গায় পৌঁছে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁর স্বামী।
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বামীর গ্রেপ্তারের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ঋতু। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর অজয় তাঁকে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। দ্রুত তাঁকে সেখান থেকে বের করার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেছিলেন তিনি।
অজয় পন্ত এমভি স্মির্টোস নামের একটি তেলবাহী জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন। জাহাজটি রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর একটি হিসেবে স্মির্টোস ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল।
গত ৪ জুন রাশিয়ার উস্ট-লুগা বন্দর থেকে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা করে জাহাজটি। বাল্টিক সাগর পেরিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে পৌঁছালে ব্রিটিশ বাহিনী সেটি জব্দ করে এবং অজয়কে গ্রেপ্তার করে।
ঋতুর দাবি, তাঁর স্বামী জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা বা আইনি জটিলতার বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি বলেন, অজয় পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন এবং পুরো ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
তবে আদালতে ব্রিটিশ আইনজীবীরা ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে অজয় পন্ত জাহাজটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তাঁর দায়িত্ব ছিল জাহাজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানা।
অন্যদিকে অজয়ের আইনজীবী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অজয় একজন কর্মচারী মাত্র এবং তিনি জাহাজের মালিকের নির্দেশ অনুসরণ করেছেন। ক্যাপ্টেনের মূল দায়িত্ব হলো নির্ধারিত গন্তব্যে জাহাজটি নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া।
অজয় পন্তের বিচার আগামী ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির উপদূতাবাসের কর্মকর্তারা অজয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।
সূত্র-আনন্দবাজার ডট কম