অ্যানমারি ও’রেইলিকে ফার্নট্রি গালিতে তাঁর নিজ বাড়ির ভেতরে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩০ বছর বয়সী ওই নারীকে মারধরের শিকার ও গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ছবি- 9News
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে নিজ বাড়িতে তিন সন্তানের এক তরুণী মাকে হত্যার ঘটনায় তাঁর সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত অ্যানমারি ও’রেইলিকে তাঁর সবচেয়ে ছোট সন্তানের সামনে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন তাঁর স্বজন ও বন্ধুরা।
৩০ বছর বয়সী অ্যানমারি মেলবোর্নের ফার্নট্রি গালি এলাকায় নিজের বাড়িতে ছিলেন। শুক্রবার সকাল ১০টার কিছু আগে পুলিশ ওই বাড়িতে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ আগেই দম্পতির বড় দুই সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ গিয়ে অ্যানমারিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।এ ঘটনায় তাঁর ৪৫ বছর বয়সী সঙ্গীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। শনিবার রাতে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ৯নিউজ জানিয়েছে, বাড়ির বাইরে এক ব্যক্তিকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখে একজন পথচারীর সন্দেহ হয়। পরে তিনি বাড়ির ভেতরে গিয়ে অ্যানমারির খোঁজ নেন।
সেখানেই তিনি ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পান এবং জরুরি সেবায় খবর দেন।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ওই টাউনহাউসে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। 9News
ঘটনার ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও অ্যানমারির বাড়িটি পুলিশি তদন্তের আওতায় ছিল।
অ্যানমারি ও তাঁর সঙ্গী তিন সন্তানকে নিয়ে আয়ারল্যান্ড থেকে মেলবোর্নে বসবাস শুরু করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই পরিবারের বিরুদ্ধে আগে কোনো নথিভুক্ত পারিবারিক সহিংসতার ইতিহাস ছিল না।
অ্যানমারির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর স্বজন ও বন্ধুরা।
নিহতের ভাই লিখেছেন, ঘটনাটি তিনি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। অ্যানমারিকে তিনি অসাধারণ একজন মানুষ এবং সন্তানদের জন্য একজন সেরা মা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও পরিবারের ওই বাড়িটি অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে রেখেছে পুলিশ। 9News
এক বন্ধুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, এমন নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর পৃথিবীতে অ্যানমারির মতো একজনকে হারানো অত্যন্ত কষ্টের। তাঁর ভাষায়, এমন পরিণতি অ্যানমারি কখনোই প্রাপ্য ছিলেন না।
অস্ট্রেলিয়ায় চলতি বছর পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় অ্যানমারি ও’রেইলি ৪৬তম নারী হিসেবে নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র-নাইন.কম.এইউ