মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মাছুদা বেগমকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত মাছুদা বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা গেছেন।
এ ঘটনায় মাছুদার ভাই বছির উদ্দিনের করা মামলায় মেহেদী হাসান ওরফে শাপলা (৪০) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতেই কালাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মেহেদী কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। মাছুদার বাবার বাড়ি পাশের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামে। প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মেহেদী বিভিন্ন সময় স্ত্রী মাছুদার কাছে যৌতুক দাবি করতেন। দাবি পূরণ না করায় তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাছুদার ভাই বছির উদ্দিন বলেন, তাঁর বোন উত্তরাধিকারসূত্রে ২০ শতক জমি পেয়েছিলেন। ওই জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য মেহেদী চাপ দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁকে ১ লাখ টাকা দেন। এরপর আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় মাছুদার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের মধ্যে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়।
এরপর প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করা হলে দুটি দাঁত ভেঙে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে কাস্তে গরম করে তাঁর হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
মাছুদার ভাই বছির উদ্দিন তাঁর বোনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, যৌতুকের টাকা দিতে না পারার কারণেই তাঁর বোনকে নির্যাতন করা হয়েছে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মেহেদী হাসানের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে তদন্ত চলছে।