কুমিল্লায় শনিপূজা চলাকালীন বোমা বিষ্ফোরণ, আহত অন্তত ৪
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরে শনিপূজা চলাকালে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার…
প্রদীপ রায়, মেলবোর্ন, ৯ এপ্রিল
৬ এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৮টায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে তীর্থ বিশ্বাসের মৃত্যু হয়। তীর্থ পিজা ডেলিভারি করতে বেরিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় তার গাড়িটি একটি গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। কিন্তু ততক্ষণে তাকে আর জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তীর্থ মাত্র ১ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন স্টুডেন্ট ভিসায়। তার স্ত্রী ঋতিকা চৌধুরী গত ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ স্পাউস ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। তীর্থের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলায়। তার বাবা চন্দন বিশ্বাস চট্টগ্রামের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী।
-গত গত বছর ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার শিক্ষক ড. মাযহারুল তালুকদার। ইউনিভার্সিটি অব ক্যানবেরার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ডঃ মাজহারুল তালুকদার। তথ্য অনুযায়ী, ক্যানবেরা থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গালং উপশহরের বার্লি গ্রিফিন ওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে ৬ অক্টোবর ২০২৪ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় সিডনিতে গাড়ি চাপায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছিলেন। নিহত ইসমাইল প্রায় এক বছর আগে উচ্চ শিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনির শিক্ষার্থী ছিলেন। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের খেজুরতলা এলাকার আমানত উল্লাহ ও মরিয়ম বেগম দম্পতির বড় ছেলে ইসমাইল হোসেন।
-১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমে রাত সাড়ে ১১টায় গাড়ি দুর্ঘটনায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়। ব্যাঙ্কসটাউন পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে দুর্ঘটনায় পড়া মিত্সুবিশি ইভিও গাড়িটি পূব দিকে যাচ্ছিলো, এক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং গার্ড রেলের সাথে ধাক্কা লেগে আগুন ধরে যায়। উপস্থিত নিউ সাউথ ওয়েলস অ্যাম্বুলেন্সের প্যারামেডিকরা ১৭ বছর বয়সী কিশোর চালককে ঘটনাস্থলে মৃত ঘোষণা করে৷
– অক্টোবর ২০২২, অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশি দম্পতি ও তাঁদের ছেলে প্রাণ হারিয়েছিলেন৷ অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার পশ্চিমের হুইটলাম এলাকার কপিন্স ক্রসিং রোডে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান একই পরিবারের তিনজন সদস্য। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ওই দম্পতির বড় ছেলে চিকিৎসক আনোয়ার জাহিদ। তাঁদের বাড়ি ছিল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর এলাকায়। নিহতরা হলেন- শহিদুল ইসলাম (৬০), তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা (৫৫) ও ছেলে রনি (২২)।
– নভেম্বর ২০২০ সালে উবার চালক বিজয় পালের মোটর সাইকেলের সঙ্গে একটি গাড়ির সম্মুখ সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে এবং বিজয় পালের মৃত্যু হয়। বিজয় পাল ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়াতে আসেন এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেকনলজি সিডনি-তে মাস্টার্সের শিক্ষfর্থী ছিলেন। বিজয় পাল বাংলাদেশের টাংগাইল জেলার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ঢাকার আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতক পাশ করেছিলেন। বিজয় পাল বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান ছিলেন।
-এপ্রিল ২০১৮ অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাকাডু ন্যাশনাল পার্কে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। হতাহতরা সবাই চার্লস ডারউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মধ্যে বেশ কয়েকবার উল্টে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- সাইফুল ইসলাম দিনার, সাদেকা কামাল নিপা ও মাইশা কুদ্দুস। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত সবাই বাংলাদেশি এবং একই সংগঠনের সদস্য ১২ জন (৬ ছেলে ও ৬ মেয়ে) ইস্টার হলিডের ছুটি কাটাতে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। চালকসহ সাতজনকে বহনকারী গাড়িটি জাবিরু থেকে কোয়িন্ডা যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক হোন, একটি সড়ক দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না
অস্ট্রেলিয়াতে যারা পড়াশোনা বা মাইগ্রেশন যেভাবে আসেন না কেন যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামা উচিত। যথাযথ নিয়ম মেনে গাড়ি না চালালে যে কোন সময় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। সর্বপ্রথম, চালক ও যাত্রী উভয়ের উচিত সব সময় সিটবেল্ট পরিধান করা। এটি দুর্ঘটনার সময় জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি উপায়। গাড়ি চালানোর সময় গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গতি অনেক সময় প্রাণঘাতী হতে পারে।
গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, খাওয়া বা অন্য যেকোনো ধরনের মনোযোগ বিভ্রান্তকারী কাজ এড়িয়ে চলা উচিত। এগুলো চালকের মনোযোগ বিচ্যুত করে এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ায়। মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের পর গাড়ি চালানো একেবারেই অনুচিত, কারণ এটি মানুষের বিচারক্ষমতা ও প্রতিক্রিয়া সময়কে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।
আক্রমণাত্মকভাবে গাড়ি চালানো, যেমন হর্ণ বাজিয়ে চাপ সৃষ্টি করা, ঘন ঘন লেন পরিবর্তন করা বা অন্য চালকদের প্রতি রূঢ় আচরণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের আচরণ শুধু অন্যকে বিপদে ফেলে না, নিজেকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।
গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক, টায়ার, লাইট, উইপার ইত্যাদি ঠিক আছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। সংকেত প্রদানের জন্য যথাযথ সময়ে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করা উচিত, যেন অন্য চালকরা আগেই বুঝতে পারেন আপনি কী করতে যাচ্ছেন। দৃশ্যমানতা কম থাকলে হেডলাইট ব্যবহার করাও খুবই জরুরি।
বৃষ্টি, কুয়াশা বা তুষারপাতের মতো খারাপ আবহাওয়ায় গাড়ি ধীরে চালাতে হবে এবং অন্য গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এর ফলে হঠাৎ ব্রেক কষার প্রয়োজনে সংঘর্ষের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালালে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া উচিত এবং শরীর-মন সতেজ রাখা দরকার। ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো বিপজ্জনক।
ট্রাফিক নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলা জরুরি। লাল বাতিতে থামা, স্টপ সাইন মানা এবং পথচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও নিরাপদ চালকের বৈশিষ্ট্য। স্কুল এলাকা ও জনবহুল এলাকায় গাড়ি ধীরে চালানো এবং সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঁক বা জটিল স্থানে ওভারটেক না করাই উত্তম।
পথচারী, সাইক্লিস্ট এবং ছোট যানবাহনের প্রতি সহনশীল ও সতর্ক আচরণ করা উচিত। গাড়ি চালানোর সময় সব সময় শান্ত থাকা এবং ধৈর্য ধারণ করা প্রয়োজন, কারণ উত্তেজনা বা রাগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এই নিয়মগুলো মেনে চললে শুধু নিজের জীবনই নয়, অন্যের জীবনও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। নিরাপদ চালনা একটি সামাজিক দায়িত্ব, এবং এটি আমাদের সবার উচিত যথাযথভাবে পালন করা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au