গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে রাজপথের কর্মসূচি নয়, সমাধানের পরামর্শ চান রিজভী
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারকে বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজপথে আন্দোলনের…
নেপালের নুয়াকোটে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে নয় দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন দুই শ্রমিক। তাঁদের একজন সঞ্জয় সাহ। গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের সময় অন্যরা যখন নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছিলেন, তখন সহকর্মীদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত নিজেই সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানিয়েছেন সঞ্জয়।
সপ্তরি জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় পেশায় একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান। দুর্ঘটনার সময় তিনি ‘ত্রিশূলী-৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের পরিস্থিতি তৈরি হলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে প্রথমে অন্য শ্রমিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারের পর নেপালি সেনাবাহিনীর একটি মেডিক্যাল দলের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান সঞ্জয়। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করার সময় সবাইকে নিরাপদে বের করে আনার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর।
সঞ্জয়ের ভাষ্য, দুর্ঘটনার শুরুতেই তিনি সহকর্মীদের দ্রুত সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে যেতে বলেছিলেন। একে একে অন্যদের নিরাপদে বের করার চেষ্টা করতে গিয়ে তাঁর নিজের বের হওয়ার সময় ফুরিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে দৌড়ে চলে যেতে বলেছিলাম। সেটি করতে গিয়েই আমার মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে আমি আর নিজে বের হতে পারিনি।’

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক ঢলের এক সপ্তাহ পরও রসুয়াগাড়ি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকেরা বেঁচে থাকতে পারেন বলে মনে করছেন কয়েকজন কর্মকর্তাছবি: এক্স/রয়টার্স
সুড়ঙ্গে আটকে থাকার পর প্রতিটি মুহূর্ত উদ্ধারের অপেক্ষায় কেটেছে সঞ্জয়ের। তিনি জানান, ওই সময়টায় নিয়মিত ঈশ্বরকে স্মরণ করছিলেন এবং উদ্ধারকারীদের আসার অপেক্ষায় ছিলেন।
তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিয়ে। সঞ্জয়ের দাবি, তাঁর কাছাকাছি থাকা তিন থেকে চারজনের সঙ্গে তিনি কথা বলে কিংবা শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘খুব কাছাকাছি থাকা মাত্র তিন বা চারজনের সঙ্গে আমরা কথা বলে বা শব্দ করে যোগাযোগ করতে পেরেছিলাম।’
সঞ্জয়ের আশঙ্কা, সুড়ঙ্গের আরও গভীরে, বিশেষ করে পাওয়ার হাউসের আশপাশে আরও শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন। সুড়ঙ্গটি দীর্ঘ হওয়ায় সবাই হয়তো সময়মতো বের হতে পারেননি বলে মনে করছেন তিনি।
সঞ্জয় বলেন, ‘আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সবাই হয়তো সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পারেননি। কারণ, সুড়ঙ্গটি অনেক দীর্ঘ।’এ ছাড়া বন্যার পানির তীব্র স্রোত সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা মানুষকে আরও গভীর অংশের দিকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী উপত্যকায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধস আঘাত হানে। এর পর থেকেই ‘ত্রিশূলী-৩এ’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়।
ঘটনার নয় দিন পর আজ শুক্রবার সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় সাহকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় পর তাঁর জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরে আসে উদ্ধারকারী দল ও স্বজনদের মধ্যে।
একই দিনে ওই সুড়ঙ্গ থেকে কাঠমান্ডুর বাসিন্দা কবির মহারজন নামের আরেক শ্রমিককেও জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও কেউ আটকা রয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সঞ্জয়ের বক্তব্যের পর সেখানে সম্ভাব্য আটকে পড়া অন্য শ্রমিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র:কাঠমান্ডু পোস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au