শীতলক্ষ্যায় গোসল করতে নেমে তিনজনের মৃত্যু, নিখোঁজ নাতি; শোকে পাথর সুখচাঁন
মেজ জামাতা সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসেছেন। তাই তিন মেয়ের পরিবারকে বাড়িতে দাওয়াত করেছিলেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মজিবুর রহমান ওরফে সুখচাঁন। দুপুরে সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া…
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উন্নয়নের গতি কি কমানো প্রয়োজন? বিশ্বের তিন শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের কর্তার সাম্প্রতিক অবস্থান অন্তত সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এআইয়ের সক্ষমতা যে গতিতে বাড়ছে, তাতে একসময় প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাই হয়তো পিছিয়ে পড়তে পারে।
এআই নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতায় থাকা তিন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তা স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিয়ো আমোদেই প্রায় একই সুরে সতর্ক করেছেন। তাঁদের বক্তব্যের মূল কথা, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতিতেও যথেষ্ট সময় দিতে হবে। প্রয়োজনে এআই উন্নয়নের গতি কিছুটা কমাতেও হবে।
শনিবার প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রবন্ধে আমোদেই বলেন, এআই যে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, তাতে প্রযুক্তি থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য গবেষকদের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকছে না। তাঁর মতে, শুধু এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না, মডেলগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতিও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
আমোদেইয়ের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে সমর্থন করেন মাস্ক ও অল্টম্যানও। সমাজমাধ্যমে তাঁদের বক্তব্যের সারকথা, এআইয়ের উন্নয়নে আরও সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত পথে এগোনো প্রয়োজন।
আমোদেইয়ের উদ্বেগের অন্যতম কারণ অত্যাধুনিক এআই মডেলগুলির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা। তাঁর মতে, এসব মডেল এমন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যেখানে তারা মানুষের সরাসরি সাহায্য ছাড়াই নিজেদের আরও উন্নত সংস্করণ তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘রিকার্সিভ সেল্ফ-ইমপ্রুভমেন্ট’।
এই প্রবণতা নিয়েই মূলত উদ্বিগ্ন অ্যানথ্রপিকের প্রধান। কারণ, এআই যদি নিজের সক্ষমতা দ্রুত বাড়াতে পারে, তাহলে তার নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে নাও পারে।
আমোদেই তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় আরও বিচক্ষণতার প্রয়োজন। তাঁর মতে, শুধু ঝুঁকি প্রতিরোধে বিনিয়োগ যথেষ্ট নয়। এআই মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার জন্য গবেষকেরা প্রয়োজনীয় সময় পান।
তাঁর যুক্তি, এআইয়ের অগ্রগতির গতি কিছুটা কমালেও প্রযুক্তির উন্নয়ন থেমে যাবে না। বরং পাওয়া অতিরিক্ত সময় নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে কাজে লাগানো সম্ভব।
এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আমোদেই আগেও সতর্ক করেছেন। তবে এবারের প্রবন্ধে তিনি বিষয়টির যে মাত্রার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, তা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
প্রবন্ধ প্রকাশের পরই তাঁকে সমর্থন করেন মাস্ক ও অল্টম্যান। ইলন মাস্ক সমাজমাধ্যমে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘দারিয়ো ঠিক কথাই বলছে।’
অন্য দিকে, অল্টম্যান এআই মডেল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মতোই এআই মডেল পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া একটি ভালো উদ্যোগ। ওপেনএআইও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করবে বলে জানান তিনি।
এআই নিয়ে বাজারে ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে তীব্র প্রতিযোগিতায় থাকা তিন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এমন জায়গায় এসে একমত হওয়াকে বিরল ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আমোদেইয়ের সতর্কতার পেছনে আরেকটি ঘটনা কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ে এআই সফ্টওয়্যার সংস্থা ‘হাগিং ফেস’-এ একটি হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে। সেখানে ওপেনএআইয়ের একটি পরীক্ষামূলক পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রায় ১২০০টি এআই এজেন্টের একটি ‘ঝাঁক’ হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
আমোদেইয়ের আশঙ্কা, আরও বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং একই ধরনের ‘মিসঅ্যালাইনড’ এআইয়ের হাতে এমন ক্ষমতা চলে গেলে ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে।
তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণহীন এমন কোনও এআই-ঝাঁক মাত্র ছ’মাস থেকে এক বছরের মধ্যে গোটা ইন্টারনেটের ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, পরীক্ষামূলক এআই ব্যবস্থাগুলি অনলাইনে নানা ধরনের কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের অগোচরেই ঘটতে পারে। এমনকি এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে আমোদেইয়ের নিজের প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকেরও সংশ্লিষ্টতা ছিল।
স্রষ্টা ও সৃষ্টির সংঘাতের গল্প অবশ্য নতুন নয়। ১৮১৮ সালে প্রকাশিত মেরি শেলির বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’-এর কথাই মনে করা যেতে পারে।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ জুড়ে একটি প্রাণীর সৃষ্টি করেন। ভয়ঙ্কর চেহারার সেই সৃষ্টিকে পরে পরিত্যাগ করেন তিনি। একাকী সেই প্রাণী মানুষের ভালোবাসা ও স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করলেও তার চেহারার কারণে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়।
ক্রমে ক্ষোভ ও যন্ত্রণায় সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে এবং ভিক্টরের প্রিয়জনদের একে একে হত্যা করে। ভিক্টরও শেষ পর্যন্ত নিজের সৃষ্টিকে ধ্বংস করার শপথ নেন। পরিণতিতে ধ্বংস হয় স্রষ্টা ও সৃষ্টি, দু’জনেই।
এআই নিয়েও আজ একই ধরনের আশঙ্কা সামনে আসছে। মানুষ যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, একসময় সেই প্রযুক্তিই যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এআইয়ের উন্নয়নের গতি কমানো আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েও অবশ্য বিতর্ক রয়েছে।
এক পক্ষের যুক্তি, প্রযুক্তির উন্নয়ন আইন করে থামানো সম্ভব নয়। গবেষণা ও উদ্ভাবনের গতি কোনও একটি দেশ বা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
অন্য পক্ষের যুক্তি, প্রযুক্তির উন্নয়ন পুরোপুরি থামানোর প্রয়োজনও নেই। বরং ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রয়োজন যথাযথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। যেমন, গাড়ির গতি বন্ধ করা হয় না, কিন্তু গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাফিক আইন, স্পিডব্রেকার, উন্নত ব্রেক এবং অন্যান্য নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়।
এআই নিয়েও একই নীতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি যেন তার নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরির গতিকে ছাড়িয়ে না যায়।
দারিয়ো আমোদেইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত সেই ভারসাম্যের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। প্রশ্ন এখন একটাই, এআইয়ের দৌড় যত দ্রুতই হোক, মানুষ কি তার লাগাম নিজের হাতে রাখতে পারবে?
সূ্ত্র: আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au