মায়ের শেষ বিদায়ে চিন্ময়ের কান্না, বাংলাদেশ নিয়ে লেখকের কঠোর প্রশ্ন
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সেই বিখ্যাত ছবিটির কথা মনে আছে? ন্যাপাম হামলার পর নগ্ন অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছে এক ভিয়েতনামী শিশু। সায়গনের প্রায় ২৬ মাইল দূরের একটি…
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলার আগেই একাধিক দেশে হামলার পরিকল্পনা করেছিল আল কায়েদা। সেই সম্ভাব্য নিশানার তালিকায় ভারতও ছিল বলে দাবি করা হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা নথিতে। ভারত ছাড়াও আরও সাতটি দেশের নাম উঠে এসেছে ওই নথিতে।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আল কায়েদার তৎকালীন প্রধান ওসামা বিন লাদেন সম্পর্কিত ৭০টিরও বেশি গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের ২৮ অগস্টের একটি নথিতে ভারতকে সম্ভাব্য নিশানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইএর ওই নথি অনুযায়ী, ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, মিশর, কুয়েত, সৌদি আরব, ইয়েমেন, উগান্ডা এবং ‘সম্ভবত’ নাইজেরিয়ায় হামলার পরিকল্পনা ছিল আল কায়েদার। তবে নথির বেশ কিছু সংবেদনশীল অংশ এখনও গোপন রাখা হয়েছে।
ভারতকে নিশানা করার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সিআইএ। কোন শহর বা কোন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা ছিল, কখন বা কীভাবে সেই হামলা চালানোর কথা ছিল, সে সম্পর্কেও নথিতে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই।
সিআইএর প্রকাশিত নথিটির শিরোনাম, ‘বিন লাদেনের সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এখনও উদ্বেগের’। সেখানে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ায় লাদেনের নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনা বা কাঠামো সম্ভাব্য নিশানা হতে পারে।
নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও নতুন করে হামলার পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছিল লাদেনের নেটওয়ার্ক। সেই সময় অন্তত ৬০টি দেশে আল কায়েদার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।
গোয়েন্দা নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলার বিষয়ে সিআইএ একাধিকবার দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্টদের সতর্ক করেছিল।
বিল ক্লিন্টন এবং পরে জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের কাছেও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা পৌঁছেছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে কতটা তথ্য তখন গোয়েন্দাদের হাতে ছিল এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, প্রকাশিত নথির সব অংশে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল কায়েদার ১৯ জন জঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রে চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। অল্প সময়ের মধ্যেই দুটি ভবন ধসে পড়ে।
তৃতীয় বিমানটি আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ায় ভেঙে পড়ে।
৯/১১ হামলায় প্রায় ৩,০০০ মানুষ নিহত হন। এর পরেই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।
দুই দশকেরও বেশি সময় পর ৯/১১-সংক্রান্ত পুরনো গোয়েন্দা নথি প্রকাশ্যে আসায় সেই সময় আল কায়েদার কার্যকলাপ ও সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই নথিতেই ভারতের নাম উঠে আসায় বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র:আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au