সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু সর্বোচ্চ
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনেই ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।…
ভয়াবহ বন্যায় নেপালের জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর দেশটির বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ভারত। নেপালের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৬৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছে ভারত। এই সরবরাহ প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা করে চলবে এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে নেপালের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে এ সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতাও আরও শক্তিশালী হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসে নেপালে জানুয়ারি থেকে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, তা পর্যালোচনা করবে ভারত।
গত ২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ও পাহাড় ধসের পর ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পানির ঢলে নেপাল ও তিব্বতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যার কারণে নেপালের অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া দেশটিতে এখনো ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৯০০ জন বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী বলে জানা গেছে। ফলে বন্যার পর নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
বন্যার আগে নেপালের বিদ্যুতের প্রায় ১০০ শতাংশ চাহিদা জলবিদ্যুৎ থেকে পূরণ হতো। গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভারতেও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আসছিল দেশটি। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ভারত থেকে আমদানি করতে হচ্ছে নেপালকে।
এদিকে বন্যায় বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ বিভিন্ন ত্রাণকেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো প্রায় ৫ কোটি ডলার সংগ্রহের আবেদন জানিয়েছে। নেপালি কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রাথমিক পুনর্গঠনেই দেশটির অন্তত ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গত এক দশকের তুলনায় হিমবাহ দ্রুত গলছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নেপালসহ হিমালয় অঞ্চলে পানি নিরাপত্তা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au