আসিফ মাহমুদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করবে দুদক
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং…
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ডাকা দিল্লির বৈঠক ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এটিই তাঁর প্রথম সরাসরি দলীয় বৈঠক হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বৈঠকে ২৩ জনের মতো নেতার অংশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, দলটির ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কৌশল এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলবে, এসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। এর আগে শেখ হাসিনা নিজেও একাধিক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। জুলাই মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। এই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ মূলত ভার্চুয়াল বৈঠক, ফোনালাপ ও বিভিন্ন মাধ্যমে হয়েছে। এবার দিল্লিতে সরাসরি বসে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ভারতের বিভিন্ন শহরে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিতে পারেন। প্রতিবেদনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৈঠকের বিস্তারিত আলোচ্যসূচি তিনি প্রকাশ করেননি।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বক্তব্য ও সাক্ষাৎকারে বারবার এসেছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতের কার্যক্রমের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার বা অন্য ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
আগস্টের এক বক্তব্যেও শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। তবে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অবস্থান এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রমের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে দিল্লির বৈঠকে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়, আইনি পরিস্থিতি এবং দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে চলবে, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে। তবে এগুলো এখন পর্যন্ত বৈঠকের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত এজেন্ডা নয়।
দিল্লির বৈঠকের আগে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মূল কারণ, সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব কে পালন করবেন, সে বিষয়ে কথা বলেছেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দলের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ। তাঁর অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি। একই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্য প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের অর্থ দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থায়ীভাবে নতুন সভাপতি নির্বাচনের ঘোষণা নয়। তিনি তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গেই শেখ সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রচলিত গঠনতন্ত্রের ২৫(১)(ক) ধারায় সভাপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, সভাপতি অনুপস্থিত থাকলে সভাপতিমণ্ডলীর কোনো একজন সদস্যকে সভাপতির কার্য সম্পাদনের দায়িত্ব দিতে পারেন।
অর্থাৎ, গঠনতন্ত্রের ওই বিধান অনুযায়ী শুধু সভাপতিমণ্ডলীর সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্যই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হবেন, এমন সরাসরি বিধান পাওয়া যায় না। বরং সভাপতির অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য সভাপতিমণ্ডলীর কোনো একজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষমতা সভাপতির রয়েছে।
এই দিক থেকে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দলের প্রচলিত সাংগঠনিক কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বাস্তবে কে দলের দায়িত্ব পালন করবেন, সেটি নির্ভর করবে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত এবং দলীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ওপর।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সভাপতির অনুপস্থিতিতে অন্য নেতার দায়িত্ব পালনের নজির আগেও রয়েছে। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর জিল্লুর রহমান দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের সময়ের তুলনায় আলাদা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও আইনি কার্যক্রম চলছে। ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি শুধু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতিও যুক্ত থাকবে।
দলের ভেতরে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আবার দলীয় নেতৃত্বের একটি অংশ যৌথভাবে দল পরিচালনার ধারণা নিয়েও আলোচনা করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শেখ সেলিমের নাম উল্লেখ করাকে এখনই আওয়ামী লীগের স্থায়ী বা চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্ধারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি সভাপতিমণ্ডলীর কোনো সদস্যকে দায়িত্ব দিতে পারেন। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে কাউন্সিল বা জাতীয় কমিটির প্রক্রিয়াও রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ বৈঠকে অংশ নেবেন। তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন।
বৈঠকের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার সঙ্গে নেতাদের মতবিনিময়ের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রত্যেক নেতার জন্য আলাদা দায়িত্ব বা ভবিষ্যৎ ভূমিকা নির্ধারণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি।
দিল্লির বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে, যখন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আইনি কার্যক্রম চলমান। অন্যদিকে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বৈঠকে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা, দেশে ফেরার পর আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা, বিদেশে অবস্থানরত নেতাদের দায়িত্ব এবং দেশে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কাঠামো।
তবে বৈঠক শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবস্থান করায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বড় একটি অংশও দেশের বাইরে রয়েছেন। এর মধ্যে তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা এবং অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব নিয়ে বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ সেলিমের নাম উল্লেখ করার পর নেতৃত্বের প্রশ্নটি আরও সামনে এসেছে।
১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে এসব বিষয়ে শেখ হাসিনা কী নির্দেশনা দেন এবং কেন্দ্রীয় নেতারা কী মত দেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়। বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বক্তব্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দেশে ফেরার নির্দিষ্ট কৌশল কিংবা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের কাঠামো সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে কোনো দাবিকে দেখা যাচ্ছে না।
বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, দিল্লির বৈঠকটি আওয়ামী লীগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা, তাঁর অনুপস্থিতিতে দল পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে সেখানে কী সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসে, তার ওপরই পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার বড় একটি অংশ নির্ভর করবে।
সূত্রঃ দ্য ওয়াল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au