বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়, দুই দেশকে এক কাতারে ফেললে ক্ষতি ভারতেরই
প্রায় দুই বছর আগের তুলনায় ভারতের তাৎক্ষণিক প্রতিবেশ এখন অনেক বেশি জটিল ও অস্থির। ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর সংকট কিংবা তাদের সঙ্গে…
আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টার পর রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের বহর রওনা দেয়।
উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জোটের আট দফা দাবি সরকার বাস্তবায়ন না করলে তা প্রয়োজনে এক দফার দাবিতে পরিণত হতে পারে। তাঁর ভাষায়, এক দফার দাবিতে পরিণত হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে আট দফা দাবি রয়েছে। প্রয়োজন হলে তা নয় দফা বা ১০ দফায়ও পরিণত হতে পারে। জনগণের প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় তা এক দফার দাবিতে রূপ নিতে পারে।
সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দাবি না মানলে কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। তাঁর দাবি, তাঁরা কোনো দলের একক দাবিতে রাজপথে নামেননি, বরং ১৮ কোটি মানুষের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জোটের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিটি লংমার্চের আগে জোটের দাবির তালিকায় যুক্ত করা হয়।
উদ্বোধনী সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার হরণ ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছর তাঁরা মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের অধিকার খর্ব করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন, হেলিকপ্টারে দেশ ছেড়ে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন। তাঁর এই বক্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য ও সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগের অংশ হিসেবে এসেছে।
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন এলাকায় ১১ দলীয় জোটের টাঙানো ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড লংমার্চ ঘিরে জনসমাগম ঠেকাতে পারবে না বলেও তিনি দাবি করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকারকে সতর্ক করতেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। তবে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত থাকবে বলে তিনি জানান।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, তাঁরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন না। বরং দেশকে সঠিক পথে ফেরানোর জন্য আন্দোলন করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক কর্মসূচি। এ নিয়ে সরকারের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এর আগে তিনি কর্মসূচি সফল করতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছিলেন।
উদ্বোধনী সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা এবং জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।
ঢাকা-রংপুর লংমার্চের পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। প্রথম পথসভাটি গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান।
এরপর টাঙ্গাইলের নগর জলফাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শফিকুর রহমান গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসের পথসভায় বলেন, তাঁরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ, আধিপত্যের অবসান এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চান। গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সেই রায় উপেক্ষা করে জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং সেই অপমানের প্রতিকার চাইতেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন।
লংমার্চের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছিলেন, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কর্মসূচির সফলতা প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও মহানগর ইউনিটকে যানবাহন ব্যবস্থাপনা ও কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জোটের নেতারা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সড়কে চলাচলকারী মানুষ, পরিবহন চালক, যাত্রী, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করেছিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোট। এরপর চারটি বিভাগীয় শহরকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক লংমার্চ ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা লংমার্চ এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট ট্রেন লংমার্চ করার কথা রয়েছে। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ করার কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে জোটটি।
জোটের নেতারা বলছেন, তাঁদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য সরকার পতন নয়, বরং জনগণের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনা। তবে কর্মসূচিতে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে সরকারের নীতির সমালোচনা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও উঠে এসেছে।
ঢাকা-রংপুর লংমার্চ ঘিরে রাজধানী থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়ছে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au