দ্বিতীয় সন্তানের মা হলেন দীপিকা, দুয়ার ঘরে এল নতুন অতিথি
দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। দীপিকা ও রণবীর সিংয়ের পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। শনিবার সন্ধ্যায় কন্যাসন্তানের জন্মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন তারকা দম্পতি।…
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশে নতুন করে একটি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা সংবিধান, সংসদীয় রীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মাধ্যমে নির্ধারিত থাকে। সরকারের প্রধান দায়িত্ব নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। অন্যদিকে বিরোধী দলের অন্যতম দায়িত্ব হলো সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা, ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বিরোধী দল অনেক সময় ‘ছায়া সরকার’ কাঠামোর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নীতির ওপর নজর রাখে। সরকারের ভালো উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি ভুল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে। জনগণও সরকার ও বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে এবং পরবর্তী নির্বাচনে তাদের মূল্যায়ন করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারাটি মূলত এভাবেই পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রশ্নটি তাই সংসদ ও রাজপথের সম্পর্ক নিয়ে। সংসদীয় ব্যবস্থায় জনগণের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংসদই প্রধান প্রতিষ্ঠান। সেই সংসদ যখন কার্যকর ও সক্রিয় থাকে, তখন একই বিষয়কে কেন্দ্র করে সংসদের বাইরে ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি দৃশ্যমান রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল সংসদে সরব রয়েছে, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করছে। সর্বশেষ সংসদ অধিবেশনও ছিল বিতর্কপূর্ণ ও প্রাণবন্ত। ফলে সংসদকে রাজনৈতিক বিতর্কের কার্যকর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহারের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই একই ধরনের রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি প্রশ্ন তৈরি করছে।
শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে জনগণের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মসূচির ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠন, জুলাই গণহত্যার বিচার, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারসংকটের সমাধান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
এসবের প্রায় প্রতিটি বিষয়ই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এগুলোর অনেকগুলো নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, সংসদে আলোচনার পর একই বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজপথে লং মার্চের প্রয়োজনীয়তা কতটা? এটি কি সংসদের ভূমিকা ও কার্যকারিতাকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে?
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ কর্মসূচি পালন করেছে। এর পর আবার ঢাকা-রংপুর লং মার্চের আয়োজন রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংসদকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে রাজপথের ধারাবাহিক কর্মসূচির এই সমন্বয় কীভাবে হবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।
লং মার্চের দাবিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারসংক্রান্ত। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল গঠনের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে যেসব সাংবিধানিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের প্রশ্নটি এখন গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বলছে, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলের একটি অংশ সেই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিরোধিতার বিষয়টি কি মূলত সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে, নাকি সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে?
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো সংস্কারের লক্ষ্য ও পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতপার্থক্য সংসদীয় বিতর্ক, কমিটি, আলোচনার টেবিল এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে কতটা সমাধান করা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
পদ্ধতিগত পার্থক্য যদি মূল লক্ষ্যকে ছাপিয়ে যায়, তাহলে রাজনৈতিক সমঝোতার জায়গাটি সংকুচিত হতে পারে। বরং জুলাই সনদের আলোকে কাঙ্ক্ষিত সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটিই হওয়া উচিত মূল রাজনৈতিক প্রশ্ন।
লং মার্চের আরেকটি বড় অংশ আর্থ-সামাজিক সংকটকে কেন্দ্র করে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সারসংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের মতো বিষয়গুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত।
এসব সমস্যার অস্তিত্ব সরকারও অস্বীকার করছে না। বরং সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব সমস্যার বড় একটি অংশ দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাঠামোগত দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এগুলোর সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়।
এখানে বিরোধী দলের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার কোথায় ব্যর্থ হচ্ছে, কোন নীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন এবং কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তা তুলে ধরা বিরোধী দলের দায়িত্বের অংশ। কিন্তু সেই সমালোচনা যদি সংসদীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত বিকল্প প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে তা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও কার্যকর করতে পারে।
সংকটের সমাধানে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও পারস্পরিক সহযোগিতারও প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনীতির মতো বিষয় দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে জাতীয় স্বার্থে মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে।
গণতন্ত্রে রাজপথের আন্দোলনের কোনো ভূমিকা নেই, এমন কথা বলা যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশেই জনগণ ও রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও রাজপথের আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রশ্ন হলো, কখন কোন রাজনৈতিক ইস্যু সংসদের ভেতরে সমাধানের চেষ্টা করা হবে এবং কখন রাজপথে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে। সংসদ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংসদে আলোচিত বিষয়গুলোকে কতটা সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, সেটি বিবেচনা করা জরুরি।
কারণ সংসদ দুর্বল হলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানই। সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার সবচেয়ে সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা সংসদ। বিরোধী দল যদি সংসদে সক্রিয় থেকে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে, বিকল্প নীতি প্রস্তাব করে এবং জনগণের সমস্যাগুলো তুলে ধরে, তাহলে সংসদই হয়ে উঠতে পারে কার্যকর বিরোধী রাজনীতির প্রধান ক্ষেত্র।
অন্যদিকে সংসদের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে রাজপথকেন্দ্রিক রাজনীতি যদি প্রধান রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়, তাহলে সংসদীয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের কাছেই সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা।
বিরোধী দলের কাজ সরকারের সমালোচনা করা, জনগণের সমস্যা তুলে ধরা এবং বিকল্প নীতি উপস্থাপন করা। সরকারের কাজ হলো সেই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
লং মার্চ বা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে দেখতে হবে, এসব কর্মসূচি যেন সংসদীয় রাজনীতির বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায় এবং রাজনৈতিক বিরোধ যেন প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রকে দুর্বল না করে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি লং মার্চ হবে কি হবে না, শুধু তা নয়। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংসদকে কতটা কার্যকর করতে চায় এবং মতপার্থক্যগুলোকে কতটা প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে প্রস্তুত।
গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় কেবল সরকারের মাধ্যমে নয়, শক্তিশালী বিরোধী দল, কার্যকর সংসদ, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার সমন্বয়ে। তাই সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষের দায়িত্ব হলো রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে কার্যকর রাখা এবং জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে সংঘাতের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক বিতর্কে রূপ দেওয়া।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au