দৌলতদিয়ায় পার্কিং করা বাসে আগুন, নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা?
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে পার্কিং করে রাখা একটি লোকাল বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।…
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সময় নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফরটি আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে দুই পক্ষ কথাবার্তা বলছে।
ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছিল, আগামী নভেম্বরেই তারেক রহমানের ভারত সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের কয়েক দিন পর তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিকসের আয়োজক ভারত আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার বাংলাদেশকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই আমন্ত্রণে সাড়া দেননি।
এর আগে গত আগস্টে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে দিল্লি আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সফর অনুষ্ঠিত হয়নি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি থেকে অডিও লিংকের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতেই তারেক রহমানের ভারত সফর পিছিয়ে যায়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। দুই পক্ষ এমন একটি তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করছে, যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সময়সূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিলেও ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্যের পর আবারও উত্তেজনা বাড়ে।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ নির্ধারণে ঢাকার অন্যতম বিবেচনা হচ্ছে সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। এর সঙ্গে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত।
ঢাকা চাইছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধের বিষয়ে দিল্লি কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা স্পষ্ট করুক। তবে এখন পর্যন্ত ভারত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো জবাব দেয়নি বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি একদিকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে, অন্যদিকে এটি তারেক রহমানের ভারত সফর আয়োজনের ক্ষেত্রেও একটি জটিলতা তৈরি করেছে। দুই পক্ষই এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যাতে সফরটি আয়োজন করা সম্ভব হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অনুরোধের পাশাপাশি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও আলোচনায় রাখতে চায় ভারত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে দুই পক্ষই সচেতন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর ও শক্তিশালী সম্পর্ক থাকলে উভয় দেশই তা থেকে উপকৃত হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au