বাংলাদেশ

প্রতিমা ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শুরু হলো ‘দুর্গাপূজার আমেজ’

  • 2:05 am - September 21, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৫৫ বার
প্রতিমা ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শুরু হলো ‘দুর্গাপূজার আমেজ’। ছবিঃ সংগৃহীত

দুর্গাপূজা আসছে। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ, সাজসজ্জার প্রস্তুতি, আলোকসজ্জা আর উৎসবের আয়োজন। ভক্তদের অপেক্ষা মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার আগমনের। কিন্তু উৎসবের এই আবহে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে যেন আরেকটি পরিচিত দৃশ্যও ফিরে এসেছে। প্রতিমা ভাঙচুর।

সিলেটের বালাগঞ্জে দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঢুকে বটি দিয়ে দুর্গাসহ কয়েকটি প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ব্যঙ্গ করে লিখছেন, ‘এই ঘটনা না হলে জানতেই পারতাম না পূজা আসছে।’

একটি বাক্যেই যেন উৎসবের আগের উদ্বেগটা ধরা পড়েছে। যে দেশে দুর্গাপূজার প্রস্তুতির খবরের সঙ্গে নিরাপত্তার খবরও নিয়মিত শিরোনাম হয়, সেখানে প্রতিমা ভাঙচুর যেন অনেকের কাছে উৎসবের আগমনী বার্তার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এটি কোনো স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য বাস্তবতা নয়। একটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর শুধু মাটির তৈরি একটি কাঠামো ভেঙে দেওয়া নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সমান নাগরিক অধিকারের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।

বালাগঞ্জে কী ঘটেছে

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালাগঞ্জ পশ্চিম বাজার নবীনগর সার্বজনীন পূজামণ্ডপে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও মন্দির কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সাইদুজ্জামান শিমুল নামের ২৯ বছর বয়সী এক যুবক মণ্ডপে ঢুকে বটি দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকের প্রতিমার বিভিন্ন অংশে কোপ দেন।

ঘটনার পর মন্দির কমিটির সদস্যরা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে একটি বটি দা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ তরফদার জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মন্দির কমিটির সভাপতি লাল মোহন দাস নান্টু বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি কেন মণ্ডপে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর করেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনাটি কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ কি না, সে বিষয়ে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কিন্তু ঘটনাটি যে প্রশ্নটি আবার সামনে এনেছে, তা হলো, পূজার সময় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনা ও প্রতিমার নিরাপত্তা কি এখনো বাংলাদেশের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়?

পূজার আগে প্রতিমা ভাঙচুর, যেন পুরোনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি

বালাগঞ্জের ঘটনা বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা কি না, তা তদন্তের বিষয়। তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে মন্দির, পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুরের একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফরিদপুরের একটি প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো মন্দিরে কয়েকটি প্রতিমার অংশ ভাঙচুর করা হয়েছিল। পুলিশ ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং পরে প্রতিমা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একই সময়ে গাজীপুরে একটি পূজামণ্ডপে নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করা হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে গিয়ে কারিগরদের সঙ্গে বিরোধের পর ফিরে এসে ভাঙচুর করে। অর্থাৎ প্রতিটি ঘটনাকেই সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার আগে ঘটনার পেছনের কারণ তদন্ত করে দেখা জরুরি।

কিন্তু একই সঙ্গে এ কথাও সত্য, ধর্মীয় উপাসনালয় বা প্রতিমা ভাঙচুরের প্রতিটি ঘটনাই সংখ্যালঘু নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করতে পারে।

২০২৫ সালে সরকারি হিসাবে ৩৮ মন্দির ভাঙচুর

বাংলাদেশ সরকারের পুলিশ-তথ্যভিত্তিক ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে ৭১টিকে সাম্প্রদায়িক প্রকৃতির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই ৭১টি ঘটনার মধ্যে ছিল ৩৮টি মন্দির ভাঙচুর, একটি মন্দিরে চুরি, আটটি অগ্নিসংযোগ এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকি বা উপাসনালয়ের ক্ষতিসহ আরও ২৩টি ঘটনা। এসব ঘটনায় অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানানো হয়েছিল।

সরকার অবশ্য একইসঙ্গে জানিয়েছে, সংখ্যালঘুদের নিয়ে নথিভুক্ত ৬৪৫টি ঘটনার বড় অংশ সাম্প্রদায়িক কারণে ঘটেনি। সরকারি পর্যালোচনায় প্রতিবেশী বিরোধ, জমি নিয়ে বিরোধ, চুরি, ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধ, যৌন সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধকে অনেক ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সংখ্যাগুলো ব্যাখ্যা করার সময় সাম্প্রদায়িক এবং সাধারণ অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।

কিন্তু সেই সরকারি হিসাবেই যখন ৩৮টি মন্দির ভাঙচুরের তথ্য থাকে, তখন ‘সবই স্বাভাবিক অপরাধ’ বলে বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকে না।

সংখ্যালঘুদের অধিকার কি শুধু উৎসবের পাঁচ দিন?

দুর্গাপূজা এলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের ঘোষণা আসে। মণ্ডপে পুলিশ, আনসার, স্বেচ্ছাসেবক, সিসিটিভি, নজরদারি, কন্ট্রোল রুম, টহলসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, একজন নাগরিকের ধর্মীয় নিরাপত্তা কি শুধু পূজার পাঁচ দিনের জন্য নিশ্চিত করতে হবে?

২০২৫ সালে দুর্গাপূজার আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও বলেছিলেন, নিরাপত্তা শুধু পাঁচ দিনের জন্য নয়, ৩৬৫ দিনের জন্য প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পূজার প্রস্তুতির সময়ই বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।

এই বক্তব্যের মধ্যে একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার প্রশ্ন রয়েছে। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে বছরে কয়েকটি দিন উৎসব করার সময় বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে, কিন্তু বছরের বাকি সময় তাদের মন্দির, বাড়ি, ব্যবসা বা ধর্মীয় পরিচয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকবে, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই আদর্শ নাগরিক অধিকার পরিস্থিতির সঙ্গে যায় না।

২০২৪-এর পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যায়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আগস্টে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু এলাকায় হামলার পর হিন্দু পরিবারগুলো নিরাপত্তার ভয়ে সীমান্তের দিকে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। একই প্রতিবেদনে বিভিন্ন হামলার পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয় বিরোধ ও অন্যান্য কারণের কথাও উঠে আসে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর হিন্দু, আহমদিয়া মুসলিম এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে তারা এটিও উল্লেখ করেছে যে অনেক মুসলিম নাগরিক সংখ্যালঘুদের রক্ষা করেছেন এবং এসব হামলার সমালোচনা করেছেন।

অর্থাৎ বাংলাদেশের বাস্তবতা একরৈখিক নয়। একদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা আছে, অন্যদিকে তাদের রক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষের ভূমিকার ঘটনাও রয়েছে।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার হিসাব নিয়েও মতভেদ

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর ২৫৮টি হামলার কথা জানিয়েছিল। তাদের হিসাবে এর মধ্যে ২৭টি হত্যাকাণ্ড, ২০টি নারী নির্যাতন এবং ৫৯টি উপাসনালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ছিল। তবে ওই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি পরিসংখ্যানে সাম্প্রদায়িক প্রকৃতির ঘটনা হিসেবে অনেক কম সংখ্যা দেখানো হয়েছে।

এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে জনআলোচনা তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন। কোনো হামলাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অতিরঞ্জিত করাও যেমন ক্ষতিকর, তেমনি কোনো ঘটনা ঘটলেই সেটিকে ‘সাধারণ অপরাধ’ বলে উড়িয়ে দেওয়াও ক্ষতিকর।

রংপুরের ঘটনাও মনে করিয়ে দেয় পুরোনো ভয়

২০২৫ সালের জুলাইয়ে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের পর ওই হামলা হয়েছিল বলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে। ঘটনায় ১ হাজার ২০০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং পরে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ধরনের ঘটনায় একটি বিষয় বারবার দেখা যায়। কোনো ব্যক্তির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা কথিত ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুরো একটি সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা কিংবা ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

আইনের শাসনের জায়গা এখানেই। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তদন্ত হবে, মামলা হবে, আদালত বিচার করবেন। কিন্তু একজনের কথিত অপরাধের দায় তার ধর্মীয় পরিচয়ের অন্য মানুষের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই।

‘পূজা আসছে’ বোঝার নতুন ক্যালেন্ডার?

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যটি তাই শুধু রসিকতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

‘এই ঘটনা না হলে জানতেই পারতাম না পূজা আসছে’—এই কথার মধ্যে উৎসবের আনন্দের বদলে এক ধরনের হতাশা রয়েছে।

বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকদের জন্য দুর্গাপূজা হওয়ার কথা আনন্দ, ধর্মীয় আচার, সামাজিক মিলন এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের সময়। কিন্তু প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা যদি পূজার প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসে, তাহলে উৎসবের আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

একটি রাষ্ট্রের সাফল্য তখনই, যখন কোনো নাগরিকের ধর্মীয় উৎসবকে নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখতে হয় না। বরং নাগরিকের ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সে নিশ্চিন্তে নিজের ধর্ম পালন করতে পারে।

প্রতিমা ভাঙচুর মানে শুধু প্রতিমা ভাঙা নয়

একটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় মণ্ডপের একটি কাঠামো। কিন্তু তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।

যে পরিবারটি প্রতিমা তৈরিতে অর্থ দিয়েছে, যে কারিগর দিনের পর দিন কাজ করেছেন, যে শিশু মণ্ডপে গিয়ে দেবীর মুখ দেখার অপেক্ষায় আছে, যে মানুষটি পূজার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত, সবার মধ্যেই ঘটনাটি আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।

আর যখন একই ধরনের ঘটনা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘটে, তখন সেটি একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

সেই কারণে কোনো প্রতিমা ভাঙচুরকে ‘ছোট ঘটনা’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একইভাবে তদন্তের আগেই ঘটনাটিকে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যের ফল বলাও উচিত নয়।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব কোথায়

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকদের ধর্ম পালনের অধিকার স্বীকার করে। সেই অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

তাই মণ্ডপে পুলিশ মোতায়েন করাই শেষ কথা নয়। প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে কেউ গ্রেপ্তার হলে তদন্ত সঠিকভাবে শেষ করা, প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

২০২৫ সালের দুর্গাপূজার আগে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তুতির সময় কিছু প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বালাগঞ্জের ঘটনাতেও দ্রুত গ্রেপ্তারের ঘটনা ইতিবাচক আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কিন্তু এখানেই দায়িত্ব শেষ নয়। ঘটনার কারণ কী, অভিযুক্তের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তিনি একা ছিলেন নাকি অন্য কেউ জড়িত, এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই আসতে হবে।

উৎসবের আগে যেন ভাঙচুরের খবর না আসে

বাংলাদেশের দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি দেশের সাংস্কৃতিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এতে অংশ নেন, শুভেচ্ছা জানান, অনেক এলাকায় স্থানীয়ভাবে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন।

সেই উৎসবের আগে যদি প্রতিমা ভাঙচুরের খবর আসে, তাহলে সেটি শুধু একটি সম্প্রদায়ের উদ্বেগ নয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকারেরও প্রশ্ন।

ব্যঙ্গ করে কেউ হয়তো লিখতেই পারেন, ‘এই ঘটনা না হলে জানতেই পারতাম না পূজা আসছে।’

কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী সমাজের জন্য কাম্য হলো, পূজা আসার খবর জানাতে প্রতিমা ভাঙার প্রয়োজন হবে না। মণ্ডপের আলোকসজ্জা, ঢাকের শব্দ, কাশফুল আর উৎসবের আয়োজনই যথেষ্ট হবে।

সিলেটের বালাগঞ্জে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখন প্রয়োজন দ্রুত, নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার যে সমানভাবে সুরক্ষিত, সেটি শুধু বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।

কারণ দুর্গাপূজার ‘আমেজ’ শুরু হওয়ার কথা ঢাকের শব্দে, বটি দিয়ে প্রতিমা কোপানোর শব্দে নয়।

এই শাখার আরও খবর

সাতক্ষীরার সেই এমপি গাজী নজরুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু

ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম…

ইসলামি বইমেলায় আল-কায়েদা নেতাদের বই, বাংলাদেশের জন্য বাড়ছে উগ্রপন্থার ঝুঁকি

ইসলামি বইমেলায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের লেখা এবং তাঁদের মতাদর্শ প্রচারকারী একাধিক বই। শুধু মেলা নয়, বাংলাবাজারের বিভিন্ন প্রকাশনী, অনলাইন বইয়ের…

জাতিসংঘের মহাসচিবের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালেন বাশেলে

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকার পর…

শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে উত্তাল আইআইটি মুম্বাই

ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটি মুম্বাইয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র আপলোড করার…

দ্বিতীয় সন্তানের মা হলেন দীপিকা, দুয়ার ঘরে এল নতুন অতিথি

দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। দীপিকা ও রণবীর সিংয়ের পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। শনিবার সন্ধ্যায় কন্যাসন্তানের জন্মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন তারকা দম্পতি।…

সিডনিতে বৃদ্ধা নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পূর্বাঞ্চলে এক বৃদ্ধা নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ৪৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au