ইউনূসের বক্তব্য মূল অধিবেশনে নয়, সাইড ইভেন্টে: মাসুদ কামাল
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে একটি হলরুম ভাড়া নিয়ে সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এটি সাধারণ পরিষদের…
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ৭ মার্চের ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনার বিষয়বস্তুতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ৬ আগস্টের অগ্রগতি প্রতিবেদনে প্রকল্পটির পরিধি ও ব্যবহার পরিবর্তনের (রিস্কোপিং ও রিপারপাসিং) এসব উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ নামের প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। এর আওতায় ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানকে ঘিরে দুটি ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে নির্মাণাধীন দুটি স্থাপনায় ভাঙচুরও চালানো হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই দুটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে না। এখন ওই দুই স্থানে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় থানা নির্মাণ এবং ৭ মার্চের ভাষণ ও ১৬ ডিসেম্বরের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানে ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে ওয়াটার ফাউন্টেন স্থাপন করা হবে। এ জন্য প্রকল্পের নকশা পরিমার্জনের কথাও বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনার বিষয়বস্তু পরিবর্তনের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের ভৌত কাজ ও কিছু স্থাপনার নকশায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়।
তিনি বলেন, সব নকশা ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান দুটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে এসব স্থানের পরিকল্পনা বদলালে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কতটা অক্ষুণ্ণ থাকবে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রস্তাবগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) পর্যায়ে উঠলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হবে।
পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এ অংশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ভাস্কর্য হওয়ার কথা ছিল। ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানমও এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তিনি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
শাহজাহান মিয়া আবার বিষয়টি নিয়ে উপসচিব পলি করের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মন্ত্রণালয়ের যে অগ্রগতি প্রতিবেদনে ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের মতামত তুলে ধরা হয়েছে, তাতে পলি করের সই রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে পলি কর সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকার কথা জানান। তবে নথিতে নিজের সই থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।
প্রকল্প পরিচালক প্রণব কুমার সাহার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকল্পের দাপ্তরিক কক্ষেও একাধিক দিন গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ।
৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তর-পশ্চিম কোণে। ছবির হাটের ফটক দিয়ে ঢুকে কয়েক কদম এগোলেই বাঁ দিকে স্থানটি পড়বে।
বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভাস্কর্য নির্মাণের নির্ধারিত স্থানটি টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এর ভেতরে কিছু নির্মাণাধীন অবকাঠামো রয়েছে।
প্রকল্পের নকশা পরিবর্তনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ঐতিহাসিক এই দুই স্থানের বর্তমান পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au