কোহলির রেকর্ডের দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত
বিরাট কোহলির রেকর্ডময় সেঞ্চুরি ও শুভমান গিলের দুর্দান্ত শতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ভারত। ২৯৬ রানের লক্ষ্য…
সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘৫৬’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। ৫৬ দিনের মধ্যেই কেন তাকে উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘প্রশ্নযাত্রা’।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ষষ্ঠ দিনে গড়ায়। দাবি আদায়ে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। একই দিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চুয়েট শিক্ষক সমিতিও উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এ সময় শিক্ষকরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে আবার শহীদ মিনারের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা। আন্দোলনের কারণে ষষ্ঠ দিনের মতো রোববারও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম শিক্ষক ও উপাচার্য হিসেবে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তাদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যেই তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ তারা জানতে চান। তাকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেন, ‘আজকের কর্মসূচিতে আমরা একটি প্ল্যাকার্ডই ব্যবহার করেছি। প্রতিটি প্ল্যাকার্ডে ৫৬-এর পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা জানতে চেয়েছি, ৫৬ দিনের মধ্যেই কেন অধ্যাপক সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।’
আরেক শিক্ষার্থী নাফিসা রিদিতা বলেন, তাদের একটাই দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পথনাটক করেন। এতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমের যোগদানের বিষয়টি ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
‘প্রশ্নযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম, মৌমিতা দত্ত প্রিয়া ও রাতুল হাসান।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় পেলে চুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও সুস্পষ্টভাবে উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতো।
শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা বলেন, চুয়েটের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সম্মিলিত মতামতকে সরকার গুরুত্ব দেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দেশ-বিদেশের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলের উদ্বেগ ও সমর্থন বিবেচনায় নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেন, তাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও একাডেমিক পরিবেশ রক্ষা করা। চলমান অচলাবস্থার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে শনিবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতি ও চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনও কর্মসূচি পালন করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au