করোনাভাইরাস মহামারির ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধাক্কা কাটিয়ে টানা কয়েক বছর ধরে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে ভারত। দেশটির এই অর্থনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে বিশেষভাবে উদযাপন করার মতো সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিবিদ কিয়ংহুন কিম। তাঁর মতে, ভারতের বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের সময়ের সঙ্গে তুলনীয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়ংহুন কিম দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক পলিসির (কেআইইপি) ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া দলের প্রধান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে ইতিবাচক পূর্বাভাস দিয়েছে।
কিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনার সময় দেশজুড়ে লকডাউন এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ভারতের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি কাটিয়ে দেশটি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপরের চার বছরেও প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের ওপরে ছিল।
১৯৬০ সাল থেকে পাওয়া উপাত্তের ভিত্তিতে কিম জানান, ২০০৩ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ভারতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি গড় প্রবৃদ্ধি। অন্যদিকে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশে। ফলে সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধির ধারাটি ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই গতি অব্যাহত থাকলে আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে দেশটি।
ভারতের অর্থনীতির আকারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। কিমের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ ছিল ১ ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতির আকার অনেক বড় হয়ে যাওয়ায় বর্তমানের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও আগের তুলনায় অনেক বড় অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের প্রতিনিধিত্ব করছে।
ভারতের প্রবৃদ্ধির পেছনে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সেবা খাতের গতিশীলতা এবং প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
কিয়ংহুন কিমের পূর্বাভাস, বর্তমান অর্থনৈতিক ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালের দিকে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। তাঁর মতে, মহামারির বড় ধাক্কা সামলে ভারতের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
সুত্রঃ এনডিটিভি