চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত…
দুর্গাপূজা, দশেরা ও নবরাত্রির উৎসব শেষ হতেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আবারও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ‘জ্ঞানেশ হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ নামের একটি সংগঠন।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার কনট প্লেসের কাছে বাংলা সাহেব গুরুদ্বারের সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করবেন। তবে কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। একই সঙ্গে মিছিলের পথে পুলিশ বাধা দিলে সংঘাতে না গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত স্থানে ‘জনতার সংসদ’ বা ‘পিপলস পার্লামেন্ট’ গড়ে জাতীয় সংগীত গেয়ে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে, মিছিলের নির্ধারিত এলাকা এবং নির্বাচন কমিশনের আশপাশে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় কর্মসূচি কতটা এগোতে পারবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই ধারায় চার বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, স্লোগান দেওয়া, প্ল্যাকার্ড বা ব্যানার নিয়ে মিছিল, ভাষণ দেওয়া এবং অস্ত্র বহনের মতো কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়।
‘প্রতিটি গলি যন্তর মন্তর’ স্লোগানে আন্দোলন ছড়ানোর পরিকল্পনা
মাত্র এক সপ্তাহ আগে গঠিত ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।
আন্দোলনের জন্য তারা কয়েকটি স্লোগানও সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ‘প্রতিটি গলি যন্তর মন্তর’, ‘প্রতিটি এলাকা যন্তর মন্তর’ এবং ‘আমাদের ঘর যন্তর মন্তর’। এসব স্লোগানের মাধ্যমে আন্দোলনকে রাজধানীর নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থলের বাইরে সাধারণ মানুষের বসতি ও এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে আয়োজকেরা।
শুক্রবারের কর্মসূচিকে তারা ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অভিযান’ হিসেবে তুলে ধরছে। এতে অংশ নিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন আইসার নেত্রী নেহা বোরা, সিপিএম নেত্রী ঐশী ঘোষ এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণি অভিনেতা ও আন্দোলনকর্মী প্রকাশ রাজ, উত্তর প্রদেশের কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র ও সমাজকর্মী তুষার গান্ধী এবং অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকরেরও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ার সমালোচনায় সরব পরকলা প্রভাকর এই প্রক্রিয়াকে ‘নাগরিকত্বের রক্তহীন রাজনৈতিক গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে শুক্রবারের কর্মসূচিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের সবাই অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইন্ডিয়া জোটের অবস্থান কী
এসআইআরবিরোধী আন্দোলনে বিরোধী দলগুলোর বৃহত্তর জোট ইন্ডিয়াকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আয়োজকেরা। তবে শুক্রবারের কর্মসূচি নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইন্ডিয়া জোটের। ওই সমাবেশের জন্য দিল্লি পুলিশ অনুমতিও দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমাবেশ এবং পরবর্তী আন্দোলনসূচি চূড়ান্ত করতে জোটের নেতাদের একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার। তবে কোনো কারণে বৈঠকটি বাতিল করা হয়। জোট-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী দুই থেকে চার দিনের মধ্যে নেতারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন।
ফলে শুক্রবারের ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ কর্মসূচি এবং ১ নভেম্বরের বিরোধী জোটের সমাবেশের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই কর্মসূচির মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমন্বয়ের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
সিজেপি নেতাদের ঘিরে নতুন করে তৎপরতা
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি নির্ধারণে বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বুধবার রাতে দলটির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস তিহার জেল থেকে মুক্তি পান। কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই দিল্লি পুলিশ তাঁদের বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রাজৌরি গার্ডেনে অপরাধ দমন শাখার কার্যালয়ে হাজির হতে বলে।
সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্ডেকেও একই সময়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিজিৎ দিপকে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আন্দোলনের নেতৃত্ব অজিঙ্কের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৩ অক্টোবর আশুতোষ, সৌরভ ও অজিঙ্ক নিষিদ্ধ ঘোষিত যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জ্ঞানেশ কুমারবিরোধী স্লোগান দেন। একই সঙ্গে তাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানান। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর করা হয়। এর একটি নিষিদ্ধ এলাকায় জোর করে প্রবেশ এবং অন্যটি পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে। মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব পরে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখার হাতে দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তিন নেতা অপরাধ দমন শাখার কার্যালয়ে হাজির হননি। তাঁরা হাজিরার জন্য আরও সময় চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছেন। পুলিশের সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, তাঁদের হাজিরার জন্য নতুন করে নোটিশ পাঠানো হতে পারে।
শুক্রবারের কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা
শুক্রবারের বিক্ষোভ কর্মসূচির সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে দিল্লি পুলিশের নিষেধাজ্ঞা। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, পুলিশের অনুমতি না নিয়েই তাঁরা মিছিল করবেন। পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষে না জড়িয়ে ঘটনাস্থলে ‘জনতার সংসদ’ গঠন করে জাতীয় সংগীত গেয়ে ফিরে আসবেন।
তবে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় নির্ধারিত স্থানে জমায়েত ও মিছিল আয়োজন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।
একদিকে এসআইআর বাতিল ও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে নতুন সংগঠনের আন্দোলনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে বিরোধী জোটের পৃথক সমাবেশ এবং বিজেপির পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্য, সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ভারতে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। শুক্রবারের কর্মসূচিতে কত মানুষ অংশ নেবেন, পুলিশ কী ভূমিকা নেবে এবং আন্দোলন দিল্লির বাইরে ছড়িয়ে পড়বে কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au