চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত…
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। ত্রুটি দুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি ও সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমস্যা নয়; বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, জরুরি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। তবে ওয়েবসাইটে হামলার ঘটনা ঘটেছে, এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পিএইচপির ত্রুটিতে কেন ঝুঁকি :
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা। একই ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগানো হলে ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, তথ্য চুরি কিংবা সার্ভারের কার্যক্রম ব্যাহত করার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
বিশ্বজুড়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা :
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল সেবাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত সার্ভার-সাইড প্রোগ্রামিং ভাষা। ওয়েবসাইটের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং ডেটাবেজের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি অনেক ওয়েবসাইটের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন নয়। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে। সংশ্লিষ্ট ত্রুটির প্রভাব এড়াতে দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা যাচাই :
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো এই নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়।
তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত দুর্বলতা শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চালুর উদ্যোগ :
তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা হালনাগাদ সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা, অননুমোদিত সংযোগ পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় গ্রাহক ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনলাইন তথ্যসেবা গ্রহণে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে দুর্বলতা শনাক্ত, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের সুরক্ষা পরীক্ষা সম্পন্ন করা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au