মোটরসাইকেলে একই পরিবারের ৩ জন, পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেলো মা-ছেলের
যশোরের মণিরামপুরে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজনের মধ্যে মা ও চার বছরের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ওমর…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ থাকার কথা থাকলেও দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেই সেই সুযোগ। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে মাঠের অভাবে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অবসর কাটছে মোবাইল, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের পর্দায়। এতে বাড়ছে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তি, ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ।
রাজধানীতে মাঠের সংকট
রাজধানীতে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৯৮ শতাংশেরই নিজস্ব খেলার মাঠ নেই।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫২টিতে খেলার মাঠ নেই। বিভাগীয় শহরগুলোতেও প্রায় ৪০ শতাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠের সংকট রয়েছে। অর্ধেকের বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৭২ দশমিক ২৬ শতাংশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরাও মাঠের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাঠ, খেলাধুলা ও শরীরচর্চার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ সংরক্ষণ এবং ছুটির দিনে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেয়।
তবে মাঠ থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। সরেজমিনে পাঁচটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিকেলে ছুটির পর মাঠগুলো তালাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে খেলার সুযোগ থাকলেও শিক্ষার্থীরা তা কাজে লাগাতে পারছে না।
মাঠের বদলে মোবাইল
খেলার মাঠের অভাবে শিক্ষার্থীদের অবসর কাটছে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের পর্দায়। আইসিডিডিআরবির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ইলেকট্রনিক যন্ত্রের পর্দায় কাটায়। এতে ঘুমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, মাথাব্যথা ও চোখের সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মাঠের সংকটের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডের দোকানও বাড়ছে। সেখানে আড্ডা ও খাবার খেয়ে সময় কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কোথাও কোথাও শিক্ষাঙ্গনের কাছেই তামাকজাত পণ্য বিক্রি হচ্ছে, যদিও ১০০ মিটারের মধ্যে এসব পণ্য বিক্রি ও প্রচার নিষিদ্ধ।
উন্মুক্ত জায়গার সংকট
রাজধানীর লালমাটিয়া নিউ কলোনি ক্রীড়া চক্র মাঠ দখল, দূষণ, বাজার ও নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের জন্য ৯ বর্গমিটার খোলা জায়গা প্রয়োজন। অথচ ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় জনপ্রতি খোলা জায়গা এক বর্গমিটারেরও কম।
আইপিডির গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের জন্য অন্তত ৬১০টি মাঠ প্রয়োজন। বাস্তবে রয়েছে মাত্র ২৩৫টি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ থাকা জরুরি। এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
শৈশব কাটছে চার দেয়ালে
আদনান হোসেনের স্কুলজীবন কেটেছে পড়াশোনা আর বাসার চার দেয়ালের মধ্যে। রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করা এই তরুণের ১০ বছরের শিক্ষাজীবনে খেলাধুলার সুযোগ ছিল না। সমবয়সীদের কেউ থানা, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেলেও তার অর্জনের তালিকা শূন্য।
আদনানের মতো অনেক শিক্ষার্থীর শৈশব কাটছে মাঠের অভাবে। শিক্ষাবিদদের মতে, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের সুস্থ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই শুধু মাঠ নির্মাণ নয়, বিদ্যমান মাঠ দখলমুক্ত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বেসরকারি বিদ্যালয়ের অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মানের খেলার মাঠ বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও কাজ চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au