ঘরে ঘরে শিক্ষার্থীদের কান্না, শুধু ইংরেজিতেই ফেল আড়াই লাখ
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেক শিক্ষার্থীর ঘরে নেমে এসেছে হতাশা। প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেকে। কেউ…
ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ আরও শক্তিশালী করতে মহাকাশে নতুন স্যাটেলাইট ‘এনভিএস-০৩’ উৎক্ষেপণ করেছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে জিএসএলভি-এফ১৮ রকেটের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। সফলভাবে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভারতের নির্ভুল অবস্থান নির্ণয় ও সময় গণনার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ইসরোর ‘দুষ্টু ছেলে’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জিএসএলভি রকেটটি এখন অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই রকেটের মাধ্যমেই নতুন নেভিগেশন স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।
স্যাটেলাইটটি সফলভাবে কক্ষপথে স্থাপনের পর ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেন, এর মাধ্যমে ভারত নির্ভুল সময় ও দিকনির্দেশনা ব্যবস্থার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেল। এ সফলতার জন্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময় ভারত নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। পরবর্তী সময়ে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় ‘ন্যাভিক’। এর মাধ্যমে ভারতের সীমানার বাইরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্ভুল অবস্থান ও সময়ের তথ্য পাওয়া সম্ভব।
তবে ন্যাভিক প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন সময়ে প্রযুক্তিগত বাধার মুখে পড়তে হয়েছে ভারতকে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি করা পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কয়েকটি স্যাটেলাইট অকেজো হয়ে পড়ে। নেভিগেশন ব্যবস্থায় সময়ের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ সমস্যা প্রকল্পটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইটে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক ঘড়ি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে নেভিগেশন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ের তথ্য আরও নির্ভুলভাবে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন স্যাটেলাইটটিতে ‘এল১’ সংকেতও যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কাজে ন্যাভিক ব্যবস্থার ব্যবহার আরও সহজ হতে পারে। বিমান চলাচল, পরিবহন এবং অবস্থান নির্ণয়ভিত্তিক বিভিন্ন সেবায়ও এই প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এনভিএস-০৩ এককভাবে ভারতের পুরো নেভিগেশন নেটওয়ার্কের সব সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। তবে দেশটির নিজস্ব ও স্বাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। নতুন স্যাটেলাইটটির সফল উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকেও এগিয়ে নেবে।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au