ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে ইরানে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক সমাধানের পথ…
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : একসময় একটি ম্যাগাজিনের ফ্যাশন ক্যাটালগের মডেল হিসেবে কাজ করে পেয়েছিলেন মাত্র ১ হাজার ৫০০ রুপি। সেই তরুণীই আজ বলিউডের আন্তর্জাতিক পরিচিত মুখ, সাবেক বিশ্বসুন্দরী ও কোটি ভক্তের স্বপ্নের অভিনেত্রী। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাঁর পরিচিতি, কাজের পরিধি ও পারিশ্রমিক। বলছি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কথা। আজ ১ নভেম্বর তাঁর জন্মদিন। জন্মদিনের আগে ফিরে দেখা যাক তাঁর শুরুর দিন থেকে সাফল্যের দীর্ঘ পথচলা।
১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্ম ঐশ্বরিয়ার। বাবা কৃষ্ণরাজ রাই ছিলেন জীববিজ্ঞানী এবং মা বৃন্দা রাই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। একসময় স্থপতি হওয়ার স্বপ্নও দেখেছিলেন।
তবে জীবনের মোড় ঘুরে যায় মডেলিংয়ে যুক্ত হওয়ার পর। ১৯৯২ সালের ২৩ মে তারিখের একটি বিল ২০২২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, ‘কৃপা ক্রিয়েশনস’ নামের প্রতিষ্ঠানের একটি ম্যাগাজিন ক্যাটালগের ফটোশুটে কাজ করে ১ হাজার ৫০০ রুপি পেয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ১৮ বছর।
১৫০০ রুপি থেকে বিশ্বসুন্দরী
মডেলিংয়ে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে ঐশ্বরিয়ার। ১৯৯৩ সালে আমির খানের সঙ্গে পেপসির বিজ্ঞাপনে কাজ করে নজরে আসেন। এরপর ১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জয় করেন বিশ্বসুন্দরীর মুকুট। এই অর্জন তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয় এবং বিনোদনজগতে বড় সুযোগের দরজা খুলে দেয়।
১৯৯৭ সালে মণি রত্নমের তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গ্যায়া’ দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে খুব দ্রুত সাফল্য না এলেও নিজের অভিনয় ও পর্দা উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন।
১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় নন্দিনীর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান। একই বছরের ‘তাল’ তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর ‘মোহাব্বতে’, ‘দেবদাস’সহ একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ছবি : সংগৃহীত
পার্বতী থেকে বিনোদিনী
সঞ্জয়লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় পার্বতী চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি।
২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চোখের বালি’ সিনেমায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিনোদিনী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। বাংলা ভাষার ছবিতে তাঁর উপস্থিতি দর্শক ও সমালোচকদের আগ্রহ তৈরি করে। ‘রেইনকোট’, ‘জোশ’, ‘খাকি’ ও ‘গুরু’তেও অভিনয়ের ভিন্নতা দেখিয়েছেন তিনি।
২০০৬ সালে ‘ধুম-২’ সিনেমায় একেবারে ভিন্ন রূপে হাজির হন। পরের বছর ‘গুরু’তে অভিনয় করে প্রশংসা পান। হলিউডেও কাজ করেছেন তিনি। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘প্রোভোকড’ ও ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ তাঁর আন্তর্জাতিক কাজের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও পুরস্কার
দীর্ঘ বিরতির পর ‘জাজবা’ দিয়ে বড় পর্দায় ফেরেন ঐশ্বরিয়া। পরে ‘সর্বজিৎ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’ ও ‘ফ্যানি খান’ সিনেমায় অভিনয় করেন। মণি রত্নমের ‘পোন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজে নন্দিনী চরিত্রে আবারও আলোচনায় আসেন। রাজকীয় উপস্থিতি ও অভিনয় দিয়ে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও নিজের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রেখেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন ঐশ্বরিয়া। ২০১১ সালে তাঁদের ঘরে জন্ম নেয় কন্যা আরাধ্য। বিয়ের পর নামের সঙ্গে যুক্ত হয় বচ্চন পদবি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের প্রচারণায়ও নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে।
২০০৯ সালে ভারত সরকারের পদ্মশ্রী সম্মাননা পান ঐশ্বরিয়া। ২০১২ সালে ফ্রান্সের ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০০৪ সালে লন্ডনের মাদাম তুসো জাদুঘরে তাঁর মোমের মূর্তি স্থাপন করা হয়। কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায়ও বহুবার নজর কেড়েছেন তিনি।
আয়ের বড় উৎস বিজ্ঞাপন
মডেলিংয়ের সেই ১ হাজার ৫০০ রুপির কাজ থেকে আজ তাঁর পারিশ্রমিক ও সম্পদের পরিমাণ বহু গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন বিনোদনবিষয়ক গণমাধ্যমে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৮০০ কোটি রুপির বেশি বলে অনুমান করা হয়। তবে এ অঙ্কের কোনো আনুষ্ঠানিক বা নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশিত হয়নি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড সহযোগিতা ও বিনিয়োগ তাঁর আয়ের উৎস হিসেবে আলোচিত।
তথ্যসূত্র : The Indian Express, NDTV ও Filmfare
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au