বাংলাদেশ

২০২৭ সাল হতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের বছর

  • 1:47 pm - November 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৪২ বার
শেখ হাসিনা ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে এবং ২০২৭ সাল দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন লেখক সৈয়দ বদরুল আহসান। তাঁর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার উপস্থিতি এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রত্যয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বক্তব্যে বিএনপিসহ তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে সৈয়দ বদরুল আহসান লিখেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তাঁর মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে আইনের পূর্ণ সুরক্ষা দেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের আশ্বাস দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।

লেখকের ধারণা, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পর আওয়ামী লীগকে আবারও দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা দলটির ওপর থেকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করবেন বলে মনে করেন তিনি। অতীতের নির্বাচনে দলটির প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষের সমর্থন ছিল উল্লেখ করে লেখক বলেন, এত বড় জনসমর্থন থাকা একটি রাজনৈতিক দলকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে রাখা সম্ভব নয়।

নিবন্ধে আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগ থেকে ১৯৭০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিল দলটি। ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেয়। ১৯৭৫ সালের আগস্টের পর সামরিক শাসনামলেও আওয়ামী লীগ নানা রাজনৈতিক আক্রমণের শিকার হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি আবার জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত আদর্শ পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লেখকের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এরপর ২০২৭ সালে দলটির নীতি ও আদর্শ পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ১৯৭৩ সালে গঠিত মূল কাঠামো ও নীতির আলোকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, বর্তমান ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রশ্নবিদ্ধ। ট্রাইব্যুনালকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

নিবন্ধে বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন লেখক। তাঁর মতে, নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মূলনীতি ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিশন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

সৈয়দ বদরুল আহসানের দাবি, বর্তমান সরকারের দুর্বলতা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দলটির প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো জরিপ বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি লেখক।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিবন্ধে তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে সংঘটিত সহিংসতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহালের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

লেখকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের সংবিধান পুনর্বহালের পাশাপাশি এমন বিধান যুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে সামরিক অভ্যুত্থান কিংবা জনতার শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। সংবিধানের মূলনীতি লঙ্ঘন বা তা লঙ্ঘনের চেষ্টাকেও রাষ্ট্রদ্রোহের সমতুল্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

নিবন্ধের শেষাংশে সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি। তাঁদের যেন দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সুযোগ না দেওয়া হয় এবং নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রকাশ্যে জবাবদিহি করতে হয়, সেটিও নিশ্চিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে লেখকের মূল্যায়ন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ২০২৭ সালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নিবন্ধে উত্থাপিত বিষয়গুলো লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন ও প্রস্তাব। এগুলোকে নিশ্চিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যৎ ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এই শাখার আরও খবর

ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে জটিল মোড় নিয়েছে। একদিকে ইরানে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক সমাধানের পথ…

দিল্লির সমাবেশে যোগ দিয়ে কেনাকাটার আহ্বান রাহুল গান্ধীর

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে আজ রোববার (১ নভেম্বর) সমাবেশ করবে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো…

১৫০০ টাকায়ও কাজ করেছেন ঐশ্বরিয়া, এখন শত কোটি টাকার মালিক

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : একসময় একটি ম্যাগাজিনের ফ্যাশন ক্যাটালগের মডেল হিসেবে কাজ করে পেয়েছিলেন মাত্র ১ হাজার ৫০০ রুপি। সেই তরুণীই আজ বলিউডের আন্তর্জাতিক পরিচিত…

তাহসিফের মৃত্যুতে নতুন রহস্য, সিসিটিভিতে তরুণীর সঙ্গে যাওয়ার তথ্য

বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। মৃত্যুর আগে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে এক তরুণীর সঙ্গে তাঁকে দেখা…

জার্মানিতে জেন-জি বিক্ষোভে সহিংসতা, দোকানপাটে লুটপাট ও পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানো, সামাজিক সেবার সংকোচন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার প্রতিবাদে জার্মানির বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার তরুণ।…

মক্কা চুক্তিতে যোগ দিচ্ছে ইরান?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের যৌথ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানের যোগ দেওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au