বাংলাদেশ

বব ব্ল্যাকম্যানের নিবন্ধ

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আগেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্র ভাঙতে ব্রিটেনের প্রতি আহ্বান

  • 9:36 pm - November 05, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৩৮ বার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণাকে সামনে রেখে দেশটিতে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংঘাত ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান। তাঁর মতে, হাসিনার দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তার বা সহিংসতা শুরু হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সময় পেরিয়ে যেতে পারে। তাই আগেভাগেই বাংলাদেশের সরকার, রাজনৈতিক দল, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ঠেকানো, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ তৈরিতে ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্র ভাঙতে এবং শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরে সংঘাত এড়াতে ব্রিটিশ সরকারের আগাম কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান। তাঁর আহ্বান, হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁর জীবন ও মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও সহিংসতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমঝোতার উদ্যোগ প্রয়োজন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে বব ব্ল্যাকম্যান এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ এমন এক রাজনৈতিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে পারে, যার প্রভাব দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দেশে ফিরলে তাঁর সামনে মৃত্যুদণ্ডের রায়, গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

ব্ল্যাকম্যানের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন বড় পরীক্ষা হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা করে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব কি না। তাঁর ভাষায়, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে, অভিযুক্তদেরও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, যেখানে বারবার প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি ফিরে আসবে না।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে গভীর পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে ব্ল্যাকম্যান বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানে ব্রিটেনের বিশেষ আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। তাঁর মতে, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে কিংবা সহিংসতা শুরু হলে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া অনেক দেরি হয়ে যাবে।

এ কারণে তিনি এবং তাঁর কয়েকজন সহকর্মী ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন, তাঁরা কোনো পক্ষকে দায়মুক্তি দেওয়া কিংবা বিচারের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারণের পক্ষে নন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত সহিংসতা এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের সত্য উদ্‌ঘাটন, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিকার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

ব্ল্যাকম্যানের মতে, ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ যেন কোনো রাজনৈতিক পক্ষের লড়াইয়ের হাতিয়ার হয়ে না ওঠে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যক্তির দায় নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পদমর্যাদা কাউকে দায়মুক্তি দিতে পারে না। একইভাবে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা অপরাধ প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না। সাবেক শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের রাজনৈতিক বিরোধী, উভয়ের ক্ষেত্রেই একই বিচারিক মানদণ্ড প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

ব্রিটিশ সরকারের জন্য চারটি প্রস্তাব

বাংলাদেশের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকারের চারটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করেন বব ব্ল্যাকম্যান।

প্রথমত, শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না, এমন একটি দ্ব্যর্থহীন লিখিত নিশ্চয়তা বাংলাদেশের কাছ থেকে আদায়ের জন্য ব্রিটেনের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সেই নিশ্চয়তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার বিষয়টিও ব্রিটেনের সমর্থন করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

ব্ল্যাকম্যানের যুক্তি, কোনো অন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়ার সমাধান মৃত্যুদণ্ড হতে পারে না। একইভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও সমাধান সম্ভব নয়।

তাঁর মতে, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি শুধু মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নির্যাতন, গুম, জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি এবং পূর্বানুমানযোগ্য সহিংসতার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা থাকতে হবে। দেশে পৌঁছানো, বিমানবন্দর থেকে পরিবহন, আদালতে হাজিরা এবং আটক অবস্থায় তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এ জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা, স্বাধীন পর্যবেক্ষণের সুযোগ রাখা এবং কোনো ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ব্ল্যাকম্যানের মতে, স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ না থাকলে শুধু মৌখিক বা লিখিত আশ্বাস যথেষ্ট নয়।

দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনার জন্য কার্যকর আইনি প্রতিকার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত ব্রিটেনের। তাঁর বক্তব্য, শেখ হাসিনাকে তাঁর পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ ও তাঁদের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দণ্ড ও সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

যেকোনো আটকের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য আইনি ভিত্তি থাকতে হবে এবং তা দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে স্বাধীন বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আনতে হবে। আসামির আইনজীবীর সঙ্গে গোপনীয় যোগাযোগ, মামলার নথি ও তথ্য যথাসময়ে সরবরাহ, আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং সাক্ষীদের জেরা করার কার্যকর সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

ব্ল্যাকম্যান বলেন, এসব অধিকার শুধু শেখ হাসিনার জন্য নয়, প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে সেটিকে প্রকৃত সুরক্ষা বলা যায় না।

এ প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশিত উদ্বেগগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, বিচারব্যবস্থায় সংস্কার এনে পক্ষপাতমূলক বিচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আটকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আইনের কাঠামো পরিবর্তন করলেই চলবে না, আদালত ও আটককেন্দ্রে বাস্তবে কী ঘটছে, তার ভিত্তিতেই বিচারব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে হবে।

তৃতীয়ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য একটি স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন ব্ল্যাকম্যান। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে অমীমাংসিত সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিতে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর প্রস্তাব, নতুন কোনো তদন্ত শুরু হলে তা জাতিসংঘের বিদ্যমান অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হওয়া উচিত। এতে একই বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়ানো যাবে এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের বিচারিক কার্যক্রম এবং আটক ব্যক্তিদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো পর্যবেক্ষণের কার্যকর সুযোগ দিতে হবে। তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন স্বাধীনভাবে প্রকাশের অধিকারও থাকতে হবে।

ব্ল্যাকম্যানের মতে, পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি কোনো বিচারপ্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক উপায় হতে পারে না। তাঁরা যদি যথাযথভাবে বিচারপ্রক্রিয়া যাচাই করার সুযোগ না পান, তাহলে তাঁদের উপস্থিতি দিয়ে সেই প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তবে তদন্তের নামে জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা কিংবা বিশ্বাসযোগ্য জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিলম্বিত করাও ঠিক হবে না।

চতুর্থত, বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাংলাদেশিদের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতা এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগ লন্ডন থেকে চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল, ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধি এবং স্বাধীন নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে এটি পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সম্মত হলে একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।

ব্ল্যাকম্যানের মতে, এ উদ্যোগের প্রাথমিক লক্ষ্য হওয়া উচিত রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধে রাজনৈতিক অঙ্গীকার তৈরি করা। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিরোধীদের বাদ দেওয়া বা দমন করার জন্য ফৌজদারি মামলা ব্যবহার করা হবে না, এমন সমঝোতাও প্রয়োজন।

দীর্ঘমেয়াদি সংলাপে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

হাসিনা ও বর্তমান ক্ষমতাসীনদের জন্য একই মানদণ্ডের আহ্বান

রাজনৈতিক পুনর্মিলনের অর্থ অতীতের ভুক্তভোগীদের ভুলে যাওয়া কিংবা গুরুতর অপরাধের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্ল্যাকম্যান। একইভাবে ন্যায়বিচারের নামে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা বা তাদের রাজনৈতিকভাবে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তাঁর মতে, একটি টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের জন্য এমন পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে মানুষ কারাবন্দি হওয়া কিংবা সহিংসতার শিকার হওয়ার ভয় ছাড়াই ভিন্নমত প্রকাশ করতে পারবেন। এমনকি যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান বা আনুগত্য অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, তাঁদেরও শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ ও রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।

এ ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদেরও দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁদের স্বাধীন তদন্ত ও আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে সহিংসতা ও উসকানি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও রাজনৈতিক বিরোধীদের নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

ব্ল্যাকম্যানের বক্তব্য, একই মানদণ্ড বর্তমান ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। মৌলিক অধিকার কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক আনুগত্য বা দলীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে না।

ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনকে সক্রিয় করার প্রস্তাব

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর বিষয়টিও তাঁর প্রস্তাবে রয়েছে। ব্ল্যাকম্যান জানিয়েছেন, তাঁরা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে অনুরোধ করেছেন, যেন তিনি ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশনকে বাংলাদেশের সরকার, সহযোগী দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সম্ভাব্য কূটনৈতিক বক্তব্য, মধ্যস্থতার উদ্যোগ এবং এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে লিখিত জবাবও চেয়েছেন তাঁরা।

নিবন্ধের শেষাংশে ব্ল্যাকম্যান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব ব্রিটেনের নয়। তবে মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগীদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা এবং রাজনৈতিক সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাজ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

তাঁর মতে, বাংলাদেশের মানুষ যেন কারাবাস বা সহিংসতার ভয় ছাড়াই নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারেন, এমন রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

শেখ হাসিনার ঘোষিত দেশে ফেরার সময় ঘনিয়ে আসায় এ উদ্যোগ শুরু করার জন্য আর অপেক্ষা করা উচিত নয় বলে মনে করেন বব ব্ল্যাকম্যান। তাঁর মতে, দেশে ফেরার পর কোনো সংঘাত বা সহিংসতা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই ডিসেম্বর আসার আগেই ব্রিটিশ সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ দ্য ওয়াল

লেখক একজন ব্রিটিশ এমপি এবং কনজারভেটিভ পার্টির নেতা।‌

এই শাখার আরও খবর

শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শিল্পোদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক কর্মীসহ ২০৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।…

তারেক রহমানকে ‘চাঁদাবাজ-লুটেরা’ বলায় নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে ১০ দিনের সময় দিয়ে আইনি…

আদালত চত্বরে সাংবাদিককে ‘মার্ডার’ করার হুমকি চিত্রনায়িকা পরীমনির

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :  গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তবে জামিন পেয়ে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার…

এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার: ‘যেকোনো মূল্যে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা’

মৃত্যুদণ্ডের রায়, গ্রেপ্তার কিংবা কারাবরণের আশঙ্কা থাকলেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের নির্বাসিত জীবন ছেড়ে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন…

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জাহেদ বেপারী (৫০) নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত…

আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পরীমনি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au