মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি মস্কো বা কিয়েভ “শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো খুব কঠিন করে তোলে”, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আলোচনার মধ্যস্থতা থেকে “পিছিয়ে আসবে”
ওটিএন বাংলা ডেস্ক | বিবিসি অনুবাদ
জেমস ওয়াটারহাউস, রুথ কমারফোর্ড ও ইয়াং তিয়ান, ওডেসা থেকে প্রতিবেদন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যদি মস্কো বা কিয়েভ “শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো খুব কঠিন করে তোলে”, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আলোচনার মধ্যস্থতা থেকে “পিছিয়ে আসবে”।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনও নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশা করছেন না, তবে তিনি চান এটি “তাড়াতাড়ি” সম্পন্ন হোক।
এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, অগ্রগতির কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা পরিত্যাগ করবে।
রুবিও বলেন, “আমরা সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস এই প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকব না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার আছে।”
এই সময়েই ইউক্রেনের খারকিভ ও সুমি শহরে রুশ হামলায় দু’জন নিহত ও ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাশিয়া ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রায় ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করে এবং ধীরে হলেও পূর্ব ইউক্রেনে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
আমরা বলব, ‘তোমরা বোকার মতো আচরণ করছো’ এবং তখন আমরা পেছিয়ে আসব।”
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক শর্ত দিয়েছেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “মানুষ মারা যাচ্ছে, আমাদের এটা থামাতে হবে। কিন্তু যদি দুই পক্ষের কেউ চুক্তিকে কঠিন করে তোলে, তাহলে আমরা বলব, ‘তোমরা বোকার মতো আচরণ করছো’ এবং তখন আমরা পেছিয়ে আসব।”
হোয়াইট হাউস সূত্র বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম দিকের আশাবাদ সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে কোনও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি এবং ওয়াশিংটন দুই পক্ষকেই দায়ী করছে।
প্যারিসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে একটি শান্তি সম্মেলনের পর রুবিও বলেন, “এখন খুব দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে—আমি বলছি, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে—এই শান্তি প্রক্রিয়া সম্ভব কিনা। যদি না হয়, তাহলে আমরা এগিয়ে যাব না।”
এদিকে, ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ থামিয়ে দেবেন।
ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, “আলোচনা কঠিন হলেও রাশিয়া একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং সংলাপে উন্মুক্ত রয়েছে।”
শুক্রবার রোমে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তিনি এখনো ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে “আশাবাদী”।
তিনি বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টার কিছু আলোচনা সহ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আপডেট দিতে চাই।”
এদিকে, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি খনিজ চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, যদিও ফেব্রুয়ারির একটি বৈঠকে ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কারণে আলোচনাটি থেমে যায়।
বৃহস্পতিবার, দুই দেশ ইউক্রেনের পুনর্গঠনে একটি যৌথ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিটি ২৬ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তির বিশদ এখনও প্রকাশ না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এতে কেবল খনিজ নয়, বরং ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও গ্যাস-তেল ক্ষেত্র সম্পর্কেও দখলের ইঙ্গিত রয়েছে।
একইসঙ্গে, ইউক্রেনের সংসদ সদস্য ইভান্না ক্লিমপুশ-সিনসাদজে বলেছেন, “এই চুক্তির বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের সংসদই নেবে।”
বৃহস্পতিবার, প্যারিসে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা ইউক্রেনের জন্য পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী ও নিরাপত্তা গ্যারান্টির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
সূত্র: বিবিসি, ২০২৫
অনুবাদ ও উপস্থাপন: ওটিএন বাংলা