অবশেষে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে টানা ২৬ দিন অনশনের পর অবশেষে অনশন ভেঙেছেন সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন,…
মেলবোর্ন, ২৪ জুলাই: ভারতে মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর অপরাধ। তাই এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহেই প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে নতুন আইন অথবা বিদ্যমান আইনে সংশোধনী আনার প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে পারবে না। যারা এই ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদন্ত ও বিচারে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আদালতে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনের আওতায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু নতুন প্রতিশ্রুতি বা কঠোর আইন নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ক্ষোভের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রশাসনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার বর্তমান শিক্ষা সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন শিক্ষা সচিব নিয়োগ দিয়েছে। সরকারের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের ঘোষিত উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au