নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে…
মেলবোর্ন, ০৫ মে— বাংলাদেশে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদোহিতার মামলায় গ্রেফতার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে এবার চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
সোমবার (৫ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত ভার্চুয়াল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানিকালে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন চিন্ময়।
এর আগে, গত রোববার (৩ মে) এ হত্যা মামলায় চিন্ময়কে গ্রেফতারের আবেদন করে পুলিশ।
অবশ্য একই দিন রাষ্ট্রদোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ জামিন পাওয়ার পর তা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এম. আই. ফারুকীর মৃত্যুর কারণে সেই শুনানি হয়নি।
এর আগে রাষ্ট্রদোহ মামলায় গত বুধবার চিন্ময় দাসের জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর ফলে ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস জামিন পান।
এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যা চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। পরে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ প্রথম আলোকে বলেন, আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। শুনানি হয়নি। চেম্বার আদালত আগামী রোববার আবেদনটি শুনবেন।
এর আগে ওই মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ গত ২ জানুয়ারি চিন্ময়ের জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দিয়েছিলেন। এ নিয়ে হাইকোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে গত ১২ জানুয়ারি আবেদনটি করেছিলেন চিন্ময় দাস। এ আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুল দেন হাইকোর্ট। আবেদনকারীকে (চিন্ময়) কেন জামিন দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে তার জামিনের রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া চারটি মামলার মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুনের একটি এবং পুলিশের কাজে বাধাদান, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। হত্যা মামলার শুনানি সোমবার ভার্চুয়াল আদালতে হয়। পরে তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। বাকি তিনটির শুনানি মঙ্গলবার একইভাবে হবে।
চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
তন্ময় মালিক নামে একজন লিখেছেন, “এই নাহলে ইউনুস আর শফিকের বাংলাদেশ! 😢 তিনশ’ জঙ্গী জেলের বাইরে থাকে; দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় না; কিন্তু একজন সন্ত যার কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রামাণিক তথ্য নেই, সেই মানুষ জামিন পেলে নাকি দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে! এদেশ কখনোই উঠে দাঁড়াবে না আর যতক্ষণ না দেশের সাধারণ মানুষ ধর্মের ভিত্তিতে আইনের প্রয়োগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। বাংলাদেশে অদ্ভূতভাবে এই Silence Syndrome দেখা যায়, কারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ভয় কাজ করে।”
জয়শ্রী বৈদ্য নামে একজন লিখেছেন, “এটাই হওয়ার ছিল।এই দেশে ভালো কিছু হবেনা আর।ভালোর দিন শেষ। যায় দিন ভালো আসে দিন খারাপ। বরাবর মিলে যাচ্ছে কথাগুলো।”
উজ্জ্বল বিশ্বাস নামে একজন লিখেছেন, “একজন নিরাপরাধ সন্যাসী প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ হেফাজতে থেকেও অন্য মামলার আাসামী। এতেই প্রমাণিত উলঙ্গ রাস্ট্র, বিবস্ত্র প্রশাসন।”
গত বছরের ২৫ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সনাতনী নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানোর নির্দেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন চিন্ময়ের অনুসারীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা তাকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান আদালত এলাকায় আটকে রাখেন তারা।
এক পর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে নগরীর লালদিঘীর পাড় থেকে কোতোয়ালি এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au