মেলবোর্ন ৪ জুন
নেতৃত্ব পেয়ে ক্রমেই যেন নতুন উচ্চতার দিকে ছুটছেন শুভমান গিল। টানা দুই টেস্টে গড়েছেন নিজের সর্বোচ্চ রানের কীর্তি। আগের ম্যাচের ১৪৭ ছাপিয়ে এবার খেলেছেন রেকর্ডের অনেক পাতায় আঁচড় দেওয়া ২৬৯ রানের ইনিংস। রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দারের সঙ্গে তার দুটি দারুণ জুটিতে ভারত গড়েছে রান-পাহাড়। জবাব দিতে নেমে দ্রুত প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে পড়েছে ইংল্যান্ড।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ইংল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৭৭। ৩৭ বলে এক চারে ১৮ রানে ব্যাট করছেন জো রুট। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৫২ রানের জুটিতে হ্যারি ব্রুকের অবদান ৫৩ বলে ৩০ রান।
৫০৯ মিনিট ও ৩৮৭ বল স্থায়ী ২৬৯ রানের ইনিংসে দ্বিতীয় দিন সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন গিল। উপমহাদেশের বাইরে ভারতের অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ভারতীয় কোনো ব্যাটসম্যানের সপ্তম সর্বোচ্চ, দেশের বাইরে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংসে আপাতত এজবাস্টন টেস্টে চালকের আসনে আছে সিরিজে পিছিয়ে থাকা সফরকারীরা।
বড় ইনিংসের পর ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করতে ভারতের দরকার ছিল শুরুতে উইকেট। সেটাই এনে দিয়েছেন আকাশ দিপ ও মোহাম্মদ সিরাজ।
তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে বেন ডাকেট ও অলি পোপকে বিদায় করেন আকাশ দিপ। দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যানই ফেরেন শূন্য রানে। সিরাজের শিকার ওপেনার জ্যাক ক্রলি।
২৫ রানে প্রথম ৩ ব্যাটসম্যানকে হারানো ইংল্যান্ড প্রতিরোধ গড়েছে রুট ও ব্রুকের ব্যাটে। তৃতীয় দিন স্বাগতিকদের সামনে অপেক্ষা করছে লম্বা লড়াই।
এর আগে এজবাস্টনে ৫ উইকেটে ৩১০ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারত এগিয়ে যায় অনায়াসে। আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান গিল ও জাদেজা সাবলীল ব্যাটিংয়ে হতাশা বাড়ান স্বাগতিকদের।
তাদের জুটিতে একশ আসে কেবল ১৪৩ বলে। ছয় চারে ৮০ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে অধিনায়ককে সঙ্গ দেন জাদেজা।
টানা দুই টেস্টে নিজের সর্বোচ্চ রানের দেখা পাওয়া গিল ১৭ চারে ২৬৩ বলে এই সংস্করণে প্রথমবার দেড়শ রানের দেখা পান। জাদেজার সঙ্গে তার জুটি ছাড়ায় দুইশ, দল ছাড়ায় চারশ।
মনে হচ্ছিল কোনো ক্ষতি ছাড়াই প্রথম সেশন কাটিয়ে দেবে ভারত। লাঞ্চের একটু আগে জশ টংয়ের শর্ট বলে জাদেজা কট বিহাইন্ড হলে ভাঙে ২৭৯ বল স্থায়ী ২০৩ রানের জুটি।
সুন্দারের সঙ্গে প্রায় দেড়শ রানের জুটিতে দলকে আরও এগিয়ে নেন গিল। ৩১১ বলে স্পর্শ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্ট ও ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধ ভাঙতে না পেরে চা-বিরতির আগে ব্রুক, রুটদের আক্রমণে আনেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। ব্রুকের বলে অনায়াসে রান বাড়ালেও রুটের ‘গোল্ডেন আর্ম’ ভাঙে ১৮৯ বল স্থায়ী ১৪৪ রানের জুটি।
অনিয়মিত অফ স্পিনারের চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান সুন্দার। ১০৩ বলে তিনি করেন ৪২ রান।
এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি ভারত। ট্রিপল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগানো গিলের দুর্দান্ত ইনিংসে ইতি টানেন টং। তার শর্ট বলে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন ভারত অধিনায়ক।
আকাশ দিপ ও সিরাজকে দ্রুত ফিরিয়ে ভারতকে ছয়শ রানের আগেই থামান শোয়েব বাশির। ১৬৭ রানে তিনি নেন ৩ উইকেট। ১১৯ রানে ২ উইকেট নেন টং।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিন শেষে)
ভারত ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩১০/৫) ১৫১ ওভারে ৫৮৭ (গিল ২৬৯, জাদেজা ৮৯, সুন্দার ৪২, আকাশ দিপ ৬, সিরাজ ৮, প্রাসিধ কৃষ্ণা ৫*; ওকস ২৫-৬-৮১-২, কার্স ২৪-৩-৮৩-১, টং ২৮-২-১১৯-২, স্টোকস ১৯-০-৭৪-১, বাশির ৪৫-২-১৬৭-৩, রুট ৫-০-২০-১, ব্রুক ৫-০-৩১-০)
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২০ ওভারে ৭৭/৩ (ক্রলি ১৯, ডাকেট ০, পোপ ০, রুট ১৮*, ব্রুক ৩০*; আকাশ দিপ ৭-১-৩৬-২, সিরাজ ৭-২-২১-১, প্রাসিধ কৃষ্ণা ৩-০-১১-০, নিতিশ ১-০-১-০, জাদেজা ২-১-৪-০)