নিরাপত্তাজনিত কারণে একসঙ্গে বন্ধ ১৬টি মেট্রো স্টেশন
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
ডিএমআরসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানায়, বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চৌক, প্যাটেল চৌক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম। তবে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রাজীব চৌক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তনের (ইন্টারচেঞ্জ) সুযোগ চালু রাখা হয়েছে। এসব স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তন করা গেলেও বাইরে বের হওয়া কিংবা বাইরে থেকে স্টেশনে প্রবেশ করা যাবে না।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে স্টেশনগুলো আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছে ডিএমআরসি।
এদিকে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যন্তর মন্তর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের জন্য পরিচয় গোপন রাখা কয়েকজন দাতা খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থাও করেছেন বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে বুধবার রাতে দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, তলস্তয় মার্গের কাছে একদল দুর্বৃত্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করে। এতে কনট প্লেসের সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগত আহত হন। পরে তাকে দ্রুত রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তারা মেদান্তা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেও হাসপাতালের প্রবেশপথেই আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সংসদ সদস্য মহুয়া মাজি বলেন, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর কাছ থেকে তারা জানতে পেরেছেন, তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ওপর আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তারপরও তাদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সংসদ সদস্য সঞ্জয় যাদব সরকারের সমালোচনা করে বলেন, এত বড় জনঅসন্তোষের পরও সরকার যদি শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব না দেয়, তবে সেটি সরকারের ঔদ্ধত্যেরই প্রকাশ। তার দাবি, এটি কোনো একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন নয়, বরং সরকারের নীতি ও পুলিশের কঠোর আচরণে ক্ষুব্ধ তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন।
এদিকে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকারের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন না। তার দাবি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এমন নিশ্চয়তা সরকারকে লিখিতভাবে দিতে হবে। আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।