উজবেকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম জয়ের ইতিহাস
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। আন্তর্জাতিক হকি প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছে তারা, যেখানে শুক্রবার…
মেলবোর্ন ৫ জুলাই – প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ অস্ট্রেলিয়া-মার্কিন সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগকে তুচ্ছ করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি “চিন্তিত নন”।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ করেই তাদের পূর্ব নির্ধারিত জি-৭ বৈঠক বাতিল করে কোনো ফোনালাপ না করায় এই আলোচনা শুরু হয়, যেখানে তিনি অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
জাতীয় স্বার্থে বাণিজ্য ট্যারিফ, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং AUKUS চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক পুনঃনির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।
শুক্রবার স্কাই নিউজের অস্ট্রেলিয়া’স ইকোনমিক আউটলুক ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যালবানিজ বলেন, বছরের শেষের আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হবে।
তিনি বলেন, “অবশ্যই আমাদের বৈঠক হবে। বছরের বাকি সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক হবে।”
বৈঠক বাতিলের পর ট্রাম্পের ফোন না করা কি রূঢ় আচরণ—জিজ্ঞাসা করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মোটেই চিন্তিত নই। এটা বোঝা যায়, তিনি ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
ট্যারিফ ছাড়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ
ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিকৃত সকল পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ ট্যারিফ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের যুক্তি তুলে ধরতে থাকব… তবে মনে রাখতে হবে, আগের ট্রাম্প প্রশাসনেও পরিবর্তন আনতে সময় লেগেছিল।”
অ্যালবানিজ সরকারের নীতি নিয়ে সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা গঠনমূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করছি, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাণিজ্য সুরক্ষাবাদে আগ্রহী।”
তিনি রসিকতা করে বলেন, “ট্রাম্প বলেছেন, ‘ট্যারিফ’ হচ্ছে ইংরেজি ভাষার সবচেয়ে সুন্দর শব্দ। এখন, আমার কাছে এই শব্দটা এক মিলিয়নের মধ্যেও থাকবে না!”
আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী
বৈঠক বাতিল হলেও অ্যালবানিজ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী থেকে বলেছেন, বছরের শেষের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক হবে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সময় নিউ ইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার উপযুক্ত সুযোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার অবদানকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উচিত অস্ট্রেলিয়ার কথা বলার সময় ইতিবাচক মনোভাব দেখানো—বিশেষত প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় আমাদের যে অবদান রয়েছে তা তুলে ধরা।”
জি-৭ সম্মেলনে অ্যালবানিজ মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসান্ট এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সাথেও এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনায় বসলেও কোনো ট্যারিফ ছাড় মেলেনি।
AUKUS নিয়ে নতুন টানাপোড়েন
৩৬৮ বিলিয়ন ডলারের AUKUS সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘পিছিয়ে যেতে পারে’ এমন জল্পনাকেও উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যদিও পেন্টাগন সম্প্রতি এ চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বলেছে, “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে AUKUS পর্যালোচনা করা হবে।
অ্যালবানিজ বলেন,
দেখুন, AUKUS অস্ট্রেলিয়ার জন্যও ভালো চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও। আমরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ক্ষমতায় অবদান রাখছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প AUKUS নিয়ে কোনো নেতিবাচক কথা বলেননি, মার্কো রুবিওসহ অন্য কোনো নেতাও না।”
তবে, জুনের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান কিছুটা দ্ব্যর্থপূর্ণ হয়ে পড়ে অ্যালবানিজ ২৪ ঘণ্টা পরে সমর্থন জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন, যেখানে “সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর” আহ্বান ছিল। এই বিলম্বের কারণে দেশের অভ্যন্তরেও সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। একইভাবে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারও সমর্থন না দেওয়ায় সমালোচিত হয়।
রাডের কারণে সম্পর্ক শীতল নয়, দাবি অ্যালবানিজের
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কেভিন রাডের ‘উগ্র’ মন্তব্যের কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ হয়েছে—এমন দাবি নাকচ করেছেন অ্যালবানিজ।
রাড একসময় ট্রাম্পকে “পশ্চিমের বিশ্বাসঘাতক” ও “গ্রাম্য বোকা” বলেছিলেন, যা নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কেভিন রাডের সংযোগ নিয়ে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। তার কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা—সবই অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইতিবাচক।”
“যে আলোচনা আমি করেছি, সবই অত্যন্ত ইতিবাচক। এ পর্যন্ত কেউ কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি।”
স্কাই নিউজের এক্সক্লুসিভ ফিচার অবলম্বনে OTN বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au