ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ চুরির কবলে শ্রীলঙ্কা
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে ভয়াবহ সাইবার হামলার ঘটনায় ২৫ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অর্থ চুরির…
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল:
মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়,
বাংলাদেশ সরকার
বিষয়: শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তে থাকা শিক্ষাভীতি এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নিয়ে কিছু প্রশ্ন।
মাননীয় মহোদয়,
একটা সময় বাংলাদেশে শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনা যখন বিভিন্ন জায়গায় সামনে আসছিল, তখন আমি ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমার সেই লেখাগুলো ছিল সেই সকল শিক্ষাগুরুকে নিয়ে, যাদের শিক্ষায় একজন ছাত্র অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়।
আমাদের সময় আমরা কখনও শিক্ষকের সাথে মুখে মুখে তর্ক করা তো বহু দূরের কথা, শিক্ষকদের সামনে দাঁড়ালেই আমাদের মাথা নুয়ে আসত। সেই মাথা নত হওয়া ভয় থেকে নয়, ছিল গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা বোধ থেকে। শিক্ষক ছিলেন আমাদের কাছে জ্ঞানের পথ প্রদর্শক, নৈতিকতার প্রতীক।
সেই ধারাবাহিকতায় আমরা চাই আমাদের সন্তানেরাও যেন সেই সম্মান ও মূল্যবোধ ধরে রাখে। কিন্তু বাস্তবতা আজ যেন অন্য কথা বলছে।
আজকাল দেখা যাচ্ছে অনেক শিশু স্কুলে যেতে চায় না। যারা আগে আনন্দ নিয়ে পড়াশোনা করত, তারাও এখন পড়ালেখাকে ভয় পায়। ছোট ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বই খুলছে আনন্দ নিয়ে নয়, বরং আতঙ্ক নিয়ে। পরীক্ষার নাম শুনলেই তাদের মনে ভয় কাজ করে, ভুল করলে নম্বর কেটে যাবে এই দুশ্চিন্তা তাদের গ্রাস করে।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে। এই শিক্ষাভীতির দায়ভার কার?
এটা কি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা?
নাকি বাবা মায়েদের দায়িত্বহীনতা? নাকি সেই সমস্ত শিক্ষা গুরুদেরও কিছু ভূমিকা আছে, যারা এক সময় “ভুতকে পুত” করার কারিগর হিসেবে সম্মানিত ছিলেন?
একজন মা বাবা যেমন তার সন্তানের স্বভাব চরিত্র এবং সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা রাখেন, ঠিক তেমনি একজন শিক্ষকও তার ছাত্র – ছাত্রীদের সম্পর্কে ধারণা রাখেন। একজন ছাত্র এবং একজন সন্তানের মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই। একজন জন্ম নেয় মায়ের গর্ভে, আরেক জন জন্ম নেয় শিক্ষকের স্নেহ এবং শিক্ষার মাধ্যমে।
অনেক শিক্ষক আছেন যারা নিজের গর্ভে না ধারণ করেও অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তানের মতো করে গড়ে তোলেন। সমাজ তাদেরই শিক্ষাগুরু বলে সম্মান দেয়।
তাই একটি প্রশ্ন জাগে। শিক্ষকেরা কি আজও তাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সামর্থ্য এবং মানসিক অবস্থার আগাম ধারণা রাখেন? নাকি সেই মূল্যায়ন এখন আর কেবল শিক্ষার্থীর উপর নির্ভর করে না? এখন কি সেই মূল্যায়ন নির্ভর করে শিক্ষার্থীর পারিবারিক পরিচয়ের উপর? শিক্ষার্থীর চারপাশের সামাজিক পরিবেশ কি এখন তার শিক্ষা জীবনের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলছে?
যদি এই বাস্তবতা সত্য হয়, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে।
আমরা যারা ছোটবেলা থেকে শিক্ষকদের সম্মান করে বড় হয়েছি, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে যদি আজকের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিচার করি, তবে কি আমরা একই ফলাফল দেখতে পাব?
অতীতের শিক্ষক ছিলেন শাসনের মধ্যে স্নেহময়, কঠোরতার মধ্যে মানবিক। তারা ছাত্রের ভুল ধরতেন, কিন্তু ছাত্রকে ভেঙে দিতেন না। তারা শিক্ষার্থীর ভেতরের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতেন।
বর্তমান সময়ের অনেক শিক্ষক এখনও সেই মহান আদর্শ ধরে রেখেছেন, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু একই সাথে এটাও কি সত্য নয় যে শিক্ষার পরিবেশে কোথাও কোথাও এমন পরিবর্তন এসেছে যা শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষাকে আনন্দের বদলে ভয়ের বিষয় করে তুলছে?
শিক্ষা যদি আনন্দের পথ না হয়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে কি আমরা সত্যিই একটি সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব?
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, এই প্রশ্নগুলো কোনো অভিযোগ নয়। এগুলো একজন অভিভাবকের উদ্বেগ, একজন নাগরিকের চিন্তা, এবং একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অনুভূতি।
আমরা চাই আমাদের সন্তানরা শিক্ষকদের সম্মান করুক, শিক্ষকদের থেকে শিখুক, এবং শিক্ষা তাদের কাছে আনন্দ ও আলোর পথ হয়ে উঠুক।
সেই পরিবেশ তৈরি করা কি আজ আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব নয়?
বিনীত
একজন সচেতন অভিভাবক ও নাগরিক ।
মাধবী চক্রবর্তী ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au