তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকালে বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে চলমান এই আন্দোলনে…
ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় পলাতক ভারতীয় ব্যবসায়ী নীরব মোদির ছোট ভাই নেহাল দীপক মোদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার কোটি রুপি (প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার) অর্থ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার (৪ জুলাই) ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে তাকে আটক করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা ভারতে বহুল আলোচিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (পিএনবি) জালিয়াতি কেলেঙ্কারিতে নতুন গতি এনেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর এনডিটিভির।
ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অনুরোধেই ইন্টারপোল এই রেড কর্নার নোটিশ জারি করে। এর আগে নেহাল মোদি এই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
২০১৮ সালে ফাঁস হওয়া পিএনবি কেলেঙ্কারির অন্যতম মূল হোতা ছিলেন নেহালের বড় ভাই নীরব মোদি। অভিযোগ আছে, নীরব মোদির অর্থ পাচার, প্রমাণ নষ্ট ও তদন্তে বাধা দেওয়ার কাজে সরাসরি জড়িত ছিলেন নেহাল মোদি। তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, নেহাল শেল কোম্পানি ও বিদেশি ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবহার করে এই বিপুল অর্থ লুকাতে বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে সহায়তা করেন।
ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বড় এই ব্যাংক জালিয়াতিতে পিএনবি প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি ক্ষতির মুখে পড়ে। এর মধ্যে শুধু নীরব মোদির বিরুদ্ধেই প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি রুপি এবং তার চাচা মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে প্রায় ৭ হাজার ৮০ কোটি রুপি জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে নীরব মোদিকে যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি লন্ডনের এক কারাগারে আছেন এবং ভারতের হাতে প্রত্যর্পণ এড়াতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, মেহুল চোকসি অ্যান্টিগায় আটক রয়েছেন।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পিএনবির মুম্বাইয়ের ব্র্যাডি হাউস শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে নীরব মোদি ও মেহুল চোকসির বিরুদ্ধে। পিএনবি কর্তৃপক্ষ তখন আনুষ্ঠানিকভাবে জালিয়াতির অভিযোগ জানায়। তবে তার আগেই তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
নেহাল মোদির মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। জামিন চেয়ে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও, মার্কিন প্রসিকিউশন ইতোমধ্যেই আদালতকে জানিয়েছে তারা নেহাল মোদির জামিনের বিরোধিতা করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পিএনবি কেলেঙ্কারির তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। পাশাপাশি নেহাল মোদির প্রত্যর্পণ এবং বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতকে নতুন করে আইনি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
দেশটির ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির এই ঘটনা এখনো ভারতের অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হয়ে আছে।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au