বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর টেক্সাসের একটি বাড়ি; ছবিঃ বিবিসি
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই-
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিল কান্ট্রি এলাকায় অতি ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক প্ল্যাশ ফ্লাডে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন শিশু রয়েছে। এখনো নিখোঁজ অন্তত ২০–৩০ জন শিক্ষার্থী, যারা গ্রীষ্মকালীন খ্রিস্টান ক্যাম্প ‘ক্যাম্প মিস্টিক’-এ অংশ নিচ্ছিল।
গত ৪ জুলাই মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে ১০–১২ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়, যা গুয়াডালুপে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এক লাফে পানি ২৬–২৯ ফুট পর্যন্ত উঠে যায়। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বৃষ্টিপাত ছিল এক ঘণ্টায় চার মাসের সমান, যা শতাব্দীতে একবার ঘটে এমন দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কের কাউন্টির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অনেক মরদেহ এখনো শনাক্ত হয়নি। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে নদীর পাড়ের ক্যাম্প মিস্টিক-এ, যেখানে হঠাৎ প্লাবনে শিবিরের কেবিন, খেলার মাঠ, স্থাপনা ডুবে যায়। নিখোঁজদের মধ্যে বেশিরভাগই মেয়েশিশু। উদ্ধারকাজে স্থানীয়, রাজ্য ও ফেডারেল মিলিয়ে শতাধিক কর্মী কাজ করছেন। ব্যবহার করা হচ্ছে হেলিকপ্টার, নৌকা ও ড্রোন।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ফেডারেল সহায়তা চেয়ে জরুরি তহবিল চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন, যতক্ষণ না সব নিখোঁজকে উদ্ধার করা হয়, ততক্ষণ তৎপরতা থামবে না। শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে, যদিও এখনও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সচল হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি ও উপত্যকাসমৃদ্ধ এই এলাকায় অল্প সময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত নদীর প্রবাহকে হঠাৎ করে বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেই মাত্র এক ঘণ্টায় এমন বিপর্যয় ঘটেছে।
এদিকে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কেন শিশুদের ক্যাম্প চালু রাখা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে নিহত ও নিখোঁজ শিশুদের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় শোকের ছায়া নেমেছে পুরো এলাকায়।
নদীর পানি ধীরে ধীরে কমলেও নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। টেক্সাসের ইতিহাসে এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা দুর্ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিল কান্ট্রিতে হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টিতে মাত্র এক ঘণ্টায় চার মাসের সমান বৃষ্টি হয়ে যায়, ফলে গুয়াডালুপে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ভয়াবহ প্ল্যাশ ফ্লাড ঘটে। এই পাহাড়ি অঞ্চলে পানি দ্রুত নিচে নেমে এসে প্রবল স্রোত তৈরি করে, যা নদীর তীরের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প মিস্টিকসহ আশপাশের এলাকায় ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন ঘটছে। অতীতে ১৯৮৭ ও ২০১৫ সালেও বড় বন্যা হয়েছিল, তবে এবারের মতো প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি আগে কখনো হয়নি।
সুত্রঃ বিবিসি